বিশ্ব সংবাদ

ব্রিটেন ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সই

শেয়ার বিজ ডেস্ক : আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেছে জাপান ও যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের জন্য ব্রেক্সিট-পরবর্তী এটিই প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে বড় চুক্তি। গত মাসেই এ চুক্তির রূপরেখা প্রণয়ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ব্রিটেনের প্রায় সব রপ্তানি পণ্য জাপানের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের মধ্যে জাপানের গাড়ি যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে কোনো শুল্ক ছাড়াই। খবর: বিবিসি।

যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী এ চুক্তিকে ব্রিটেনের জন্য ইতিবাচক বলছেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে যুক্তরাজ্যের জিডিপিতে মাত্র দশমিক শূন্য সাত শতাংশ ভূমিকা রাখবে। ইইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণে যে ক্ষতি হবে, এটি সে তুলনায় সামান্য।  

বেক্সিট-পরবর্তী এটি প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি যুক্তরাজ্যের জন্য। আর এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে জাপানের সঙ্গে। ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড জানিয়েছে, নতুন এ চুক্তি মোটা দাগে বর্তমানের ইউরোপীয় ইউনিয়ন-জাপান চুক্তির মতোই, যার মূল্যমান হবে এক হাজার ৫২০ কোটি পাউন্ড।

গত মাসে এ বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচিব লিজ ট্রাস ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগির মধ্যে। এক ভিডিওকলের মাধ্যমে তারা এ চুক্তি সম্পাদন করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে তখন বলেছিলেন, ‘আমরা এ চুক্তির মধ্য দিয়ে আমাদের বাণিজ্যনীতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও একটি বাণিজ্যিক দেশ হিসেবে ইইউর বাইরে আমাদের সাফল্য অব্যাহত থাকবে।’

ট্রাস এ চুক্তিকে যুক্তরাজ্য ও জাপানের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপে যোগদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। চুক্তিটি বর্তমান ইইউ চুক্তি থেকে অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ব্যবসা খাত, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং, খাদ্য ও পানীয় এবং প্রযুক্তি খাত দারুণ লাভবান হবে।

অন্যদিকে জাপানের পক্ষে মোতেগি বলেন, চুক্তিতে পোশাক থেকে প্রযুক্তি ও স্কচ হুইস্কির মতো বিভিন্ন বাণিজ্য খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে চুক্তিটি কার্যকর হবে। তার মতে, চুক্তিটি নিয়ে বেশ কঠিন আলোচনা করতে হয়েছে। কিন্তু তিন মাসের মধ্যেই ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে, যা বেশ দ্রুতই বলা চলে।

এ চুক্তির আওতায় দু’দেশের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ রপ্তানি শুল্কমুক্তভাবে সম্পন্ন হবে। রপ্তানি ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেওয়া হবে খাদ্য ও পানীয় এবং ফিন্যান্স ও প্রযুক্তি খাতে। জাপান থেকে আমদানি করা হবে ম্যানুফ্যাকচারিং পার্টস। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য থেকে রপ্তানি করা হবে শূকর ও গরুর মাংস এবং স্যামন মাছ।

ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরাও এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। চুক্তিটিকে ‘যুগান্তকারী মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রিজের মহাপরিচালক ক্যারোলিন ফেয়ারব্রেইন। তার মতে, এ চুক্তি থেকে সর্বোচ্চ মাত্রায় লাভবান হওয়ার জন্য এখন সরকার ও ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মূলত ব্রিটেন ও জাপান গত মাসেই এ চুক্তি সম্পাদনের প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। কিন্তু আলোচনা গুছিয়ে আনতে ব্যর্থ হয় উভয় পক্ষ। ব্রিটিশ মিডিয়া প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে চুক্তিতে কৃষি খাতের বেশি কিছু বিষয় নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..