বিশ্ব বাণিজ্য

ব্রেক্সিটের আগেই ব্রিটেনে আগাম নির্বাচন!

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ব্রেক্সিট ঘিরে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে অচলাবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। ফলে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। তবে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়ানোর সম্ভাবনাও কমছে। খবর : ডয়েচে ভেলে।
ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিদায় নিতে আর ৯০ দিনও বাকি নেই। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বারবার বলছেন, যে কোনো মূল্যে নির্ধারিত তারিখে ব্রেক্সিট কার্যকর করা হবে। অর্থাৎ প্রয়োজনে কোনো চুক্তি ছাড়াই ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করবে। কিন্তু ব্রিটিশ সংসদে সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের ঘোর বিরোধী। অচলাবস্থা কাটাতে প্রধানমন্ত্রী আগাম নির্বাচনের পথ বেছে নিলেও গোটা প্রক্রিয়ার জন্য হাতে যথেষ্ট সময় অবশিষ্ট নেই।
জনসন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ব্রিটেন ও ইইউ’র মধ্যে সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তির সম্ভাবনা বানচালের অভিযোগ আনছে। ব্রেক্সিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রিটিশ মন্ত্রী মাইকেল গোভ গত মঙ্গলবার বলেন, ইইউ আলোচনা করতে চাইছে না বলে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত।
অন্যদিকে ইইউ কমিশনের এক মুখপাত্র বলেছেন, ব্রিটেন নিজস্ব অবস্থান খোলাসা করে আলোচনা করতে চাইলে দ্বার পুরোপুরি খোলা রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ব্রিটেন কোনো বিকল্প প্রস্তাব পেশ করেনি। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড সীমান্তে ব্যাকস্টপ নিয়ে জনসনের ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও তার সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো বিকল্প সমাধানসূত্র পেশ করেনি। এ অবস্থায় জনসন ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের লক্ষ্যে প্রস্তুতি আরও ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর জন্য সরকার ২০০ কোটি পাউন্ডের বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে। ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা ও অরাজকতা সম্পর্কে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিলেও সরকার চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথেই অগ্রসর হচ্ছে।
আগামী ৩ সেপ্টেম্বর সংসদের অধিবেশন শুরু হলে ব্রেক্সিট ঘিরে সরকারের ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট হয়ে যাবে। একাধিক দলের ইইউপন্থি সংসদ সদস্যরা হয় আইন প্রণয়ন করে চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করবেন অথবা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করবেন বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংসদে সরকারের মাত্র এক আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ক্ষমতাসীন টোরি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যও চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ঘোর বিরোধী। ফলে সরকারের পরাজয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জনসন পরাজিত হলে তারা এমন এক সরকার গঠন করতে চান, যার প্রধানমন্ত্রী বোঝাপড়ার মাধ্যমে ব্রেক্সিট কার্যকর করতে প্রস্তুত হবেন।
মরিয়া হয়ে বরিস জনসন আগাম নির্বাচন ডাকতে পারেন এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে তার জন্য সময় কম। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনে জিতে আরও সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ অত্যন্ত ক্ষীণ। আস্থাভোটে হেরে গেলে ১৪ দিনের মধ্যে সরকার নতুন করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ পাবে। সে লক্ষ্যে ব্যর্থ হলে নতুন করে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। জনসন ৩১ অক্টোবরের পরও আগাম নির্বাচন আয়োজন করতে পারেন।

সর্বশেষ..