বিশ্ব বাণিজ্য

ব্রেক্সিটের প্রভাবে ধারণার চেয়েও খারাপ হবে ব্রিটিশ অর্থনীতি

সিবিআই’র জরিপ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের দেউলিয়াত্ব ও মুনাফা কমে আসার পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতা জারির মতো সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ব্রিটিশ অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক। এক বছর ধরেই এসব ঘটনাক্রমের ধারাবাহিকতায় ব্যতিক্রম হয়নি, বরং তীব্রতা আরও বেড়েছে। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ পরই ৩১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বিচ্ছেদ তারিখ ব্রিটেনের। এ অবস্থায় দেশটির ব্যবসায়ীদের সংগঠন কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রিজ (সিবিআই) সম্প্রতি এক জরিপের ফল প্রকাশ করেছে। সেখানে অধিকাংশ উদ্যোক্তাই আশঙ্কা করেছেন, আগের ধারণা ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের চেয়েও বেহাল দশায় পড়তে চলেছে দেশটির সামষ্টিক অর্থনীতি। খবর: দ্য গার্ডিয়ান।

কোনো চুক্তি ছাড়া শুল্কমুক্ত ইউরোপীয় জোট ত্যাগের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই দেশটির অধিকাংশ কারখানা মালিকেরা আগামী বছর আরও কম বিনিয়োগ করবেন, এটাই জরিপের সার বক্তব্য। উৎপাদন কাজের আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে যন্ত্রপাতিও কম কিনবেন শিল্পকর্ণধারেরা। কমবে দেশটির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পণ্য বিক্রিও। ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার পর দেশটিতে এত কমহারে বিনিয়োগ কমে আসার শঙ্কা আর দেখা যায়নি। আরও উঠে এসেছে সেবা খাতের সমর্থিত তথ্য-উপাত্ত, আর্থিক খাতের ব্যবসায়ীদের সাক্ষাৎকার প্রভৃতি।

উদ্বেগ আরও বেড়ে চলার কারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান দেউলিয়াত্বের প্রক্রিয়া, পূর্ববর্তী তিন মাসের প্রান্তিকে যা ২০১৩ সালের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বাড়ে। নেদারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক হিসাবরক্ষণ সংস্থা কেপিএমজি সূত্রে জানা যায়, সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছে অবকাঠামো নির্মাণশিল্প। সেবা খাতের অবস্থাও হতাশাজনক। পর্যটন ও পান্থশালা ব্যবসায়ী গ্রুপ হুইটব্রেড, নির্মাণসামগ্রীর বৃহৎ সরবরাহকারক ট্রেভিস পারকিনস, কারডিলার পেন্ড্রাগন সবাই বলছে, ব্রেক্সিট শঙ্কায় ভোক্তাব্যয় কমে আসার পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের মুনাফায় তীব্র ভাটা পড়েছে। শিল্প ও নির্মাণ খাতের এ ভাটার ফলে ব্রিটিশ অর্থনীতি সফলতার জন্য আরও বেশি সেবা খাতনির্ভর হচ্ছে। গতবছর জুড়ে এ খাতের অবদানেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল, তবে খুবই সীমিত আকারে।

সিবিআই’র নেতা ম্যাক ডোনেল বলেন, আমাদের জরিপে উঠে আসা সাম্প্রতিক উপাত্তচিত্র এটাই প্রমাণ করেছে যে, ব্রেক্সিটের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রবণতার ঘূর্ণাবর্তে পড়বে বেশিরভাগ কোম্পানি। নির্মাণ খাতে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, কারণ বিগত এক বছরে সেখানে খুব কম বা শূন্যহারে পুঁজি আসে। এটা চক্রাকারে ভোক্তাচাহিদা আরও কমানোর পেছনেও মূল প্রভাবক হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ..