প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ব্রেক্সিটের প্রভাব শঙ্কায় ব্রিটেনের কৃষি খাত

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ব্রিটেনের কৃষি খাতের আকার খুব বড় না হলেও দেশটির জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের শ্রমিক ও ভর্তুকি অনেকটাই আসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে। তাই ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া বা ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন হলে দেশটির কৃষি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে নতুন রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদী এ খাতের সঙ্গে অনেকে।

খবর এএফপি।

গত বছরের জুনে ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে ব্রিটেনের আর্থিক, গাড়ি ও উড়োজাহাজ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ইউরোপের একক বাজারে থাকার পক্ষে তদবির করে যাচ্ছেন।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে অবশ্য অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ইউরোপের একক বাজার বা শুল্কমুক্ত সুবিধা থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করছেন। এটি কার্যকর হলে দেশটিকে বিশ্বব্যাপী নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে যেতে হবে।

ব্রিটেনের মোট জাতীয় উৎপাদনের ১ শতাংশেরও কম আসে কৃষি খাত থেকে। তবে একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমবাজার বা অন্য বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে

করা হয়।

ব্রিটেনের ন্যাশনাল ফার্মিং ইউনিয়নের (এনএফইউ) চেয়ারম্যান মেউরিং রেমন্ড বলেন, ব্রেক্সিট আপাতদৃষ্টিতে কৃষি খাতের জন্য ভালো মনে হলেও ইইউ দেশ থেকে শ্রমশক্তি আসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ইউরোপের একক বাজার থেকে বেরিয়ে এলে মৌসুমি ফসলের কাজে ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে শ্রমিক আনা ব্রিটেনের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন হয়ে যাবে।

২০১৪ সালের সর্বশেষ অর্থনৈতিক ডেটা অনুযায়ী, ব্রিটেনের কৃষি খাতে ৪ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। এর মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশই ইউরোপের অন্য দেশগুলো থেকে আসে। ইইউতে যে পরিমাণ রফতানি করে, তার থেকে দ্বিগুণ ওই অঞ্চল থেকে আমদানি করে ব্রিটেন। দেশটির কৃষিপণ্যের ৭২ শতাংশই রফতানি হয় ইইউতে।

ইইউর কমন এগ্রিকালচার পলিসি (সিএপি) সদস্য দেশগুলোকে কৃষি খাতে যে ভতুর্কি দেয়, ব্রেক্সিটের ফলে ব্রিটেন তাও হারাবে।

২০১৫ সালে সিএপি সদস্যভুক্ত দেশের কৃষকদের ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। এটি সংস্থাটির মোট আয়ের ৫৫ শতাংশ। এ ভর্তুকি না পেলে ব্রিটেনের কৃষকদের লোকসানে পণ্য বিক্রি করতে হবে অথবা দেশীয় পণ্য কিনতে ভোক্তাদের খরচ বাড়াতে হবে। ব্রিটেনের জাতীয় খাদ্যের দুই-তৃতীয়াংশ আসে অভ্যন্তরীণ কৃষি খাত থেকে।

পরামর্শক সংস্থা আগ্রা ইউরোপের মতে, সিএপি ভর্তুকি না পেলে ব্রিটেনের প্রতি ১০টি কৃষি খামারের ৯টিই বন্ধ করে দিতে হবে। ব্রেক্সিটের কারণে কৃষিজমির দামেও পতন ঘটতে যাচ্ছে।

যদিও থেরেসা মে সরকার আশ্বাস দিচ্ছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত কৃষি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ভর্তুকি দেওয়া অব্যাহত থাকবে। তবে এর পরে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছুই বলছে না সরকার।

চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কৃষি খাতের জন্য ব্রেক্সিটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক। ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের অর্থনীতি বিশ্লেষক ডিটার হেলম বলেন, ‘কৃষিনীতি পুনর্গঠনে ব্রেক্সিট একটি অনন্য সুযোগ।’

তিনি বলেন, সিএপির কৃষিনীতি ব্যয়বহুল। এটি কৃষিতে প্রায়ই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ নীতিতে ভোক্তা খরচ বেশি হয়। এছাড়া জমির অপর্যাপ্ত ব্যবহার হয়, জমির মালিকদের ভর্তুকি দেওয়া হয় ও পরিবেশের ব্যাপক

ক্ষতি হয়।