সুস্বাস্থ্য

ব্রেস্ট ফিডিংয়ে মায়েরা গুরুত্ব দিন

শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের বুকের শালদুধ দিতে হবে। নবজাতকের সুস্থতার জন্য এই শালদুধের বিকল্প নেই। এতে আছে ১০ শতাংশ আমিষ, লাকটোফেরিন, প্রচুর ভিটামিন ‘এ’, ইমিউনোগ্লোবিউলিন, ল্যাক্টো অ্যালবুমিন, ভিটামিন ‘কে’-সহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক ও সন্তান বিকাশে সহায়ক উপাদান।

কিন্তু অনেক মা তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো বা ব্রেস্ট ফিডিংয়ের গুরুত্ব বোঝেন না। বেশিরভাগ মা শিশুকে বোতলে দুধ দিয়ে থাকেন। এতে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়া, বুদ্ধির বিকাশ কম হওয়া, হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগ বেড়ে যেতে পারে।

মায়ের দুধ কেন জরুরি?

আমেরিকান হেলথ নিউট্রিশন সোসাইটি কমপক্ষে ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। কেননা মায়ের দুধে শিশুর জীবনের প্রথম সময়ের জন্য যেসব পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন, তার সবই সঠিক অনুপাতে থাকে।

মায়ের দুধে বিদ্যমান কলোস্ট্রাম নবজাতকের অপরিণত পরিপাকতন্ত্রের বিকাশে সহায়তা করে। এতে রয়েছে জাদুকরী উপাদান ভিটামিন ‘ডি’, যা প্রত্যেক শিশুর জন্য আবশ্যক।

মায়ের বুকের দুধে বিদ্যমান লো ফ্যাট ও হাই প্রোটিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং কোষের টিস্যুতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি মূলত শিশুর শরীরে জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণের পথে বাধা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি নাক, গলা ও পাচনতন্ত্রের প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে শিশুকে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করে।

যেসব শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় না, তারা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও সংক্রমণের মতো স্বাস্থ্য সমস্যায় বেশি ভোগে। সাডেন ইনফ্যান্ট ডেথ সিনড্রোম (এসআইডিএস) হলো এক বছরের ভেতর হুট করে শিশুর মৃত্যু। ময়নাতদন্তে এসব মৃত্যুর কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ফলে এসআইডিএসে শিশুমৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এজন্য শিশুকে কমপক্ষে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ পান করাতে হবে।

বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান শিশুকে মাতৃদুগ্ধ দানের ব্যাপারে যে গুরুত্বের কথা বলে, সে গুরুত্বের কথা ইসলাম আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগেই ঘোষণা করেছে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনেই নবজাতক শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান করানোর ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন, ‘আমি তো মানুষকে তার বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্ট স্বীকার করে গর্ভে ধারণ করে। অতঃপর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে।’ [সুরা লোকমান: ১৪]। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দু’বছর দুধ পান করাবে। (সুরা বাকারা: ২৩৩)

সিরাজাম মুনিরা

ডায়েট অ্যান্ড নিউট্রিশন কনসালট্যান্ট

ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..