প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বড়দিন উদ্যাপনে চাঙা বিশ্ববাণিজ্য

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ক্রিসমাস বা বড়দিন খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব  হলেও এটি সারা বিশ্বে অনেকটাই সর্বজনীন। বড়দিন উদ্যাপনে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সেরা মৌসুম চলছে। লোকজন ভিড় করছে উপহারসামগ্রী কেনায়। শপিং মলে চলছে মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি। যার প্রভাবে বৈশ্বিক ক্রয়-বিক্রয় বাণিজ্যে ব্যাপক চাঙাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। খবর রয়টার্স, সিএনএ।

বড়দিন উদ্যাপনে প্রিয়জনদের উপহার দেওয়া, ব্যক্তিগত কেনাকাটা ও পছন্দের খানাপিনায় বৈশ্বিক ভোক্তারা এবার কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের জ্যামাইকার অ্যান্থনি গনজালভেস বলেন, বড়দিন উপলক্ষে তাদের উৎসবের শেষ নেই। ১ ডিসেম্বর থেকেই উৎসব শুরু হয়ে চলবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।

বড়দিনের উৎসবে নিজেদের ভাসিয়ে দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও ইউরোপ-এশিয়া থেকে প্রচুর পর্যটক যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আকাশপথেও যাতায়াত বাড়ছে। লম্বা ছুটি নিয়ে অনেকেই বেরিয়ে পড়েছেন এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে।

বড়দিন উপলক্ষে পণ্যের রকমারি সমাহার নিয়ে বিপণিকেন্দ্রগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় খোলা থাকছে। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য চলছে মূল্যছাড়ের প্রতিযোগিতা।

খেলনা সামগ্রী এ সময় শিশুদের পছন্দের উপহার তালিকার শীর্ষে থাকে। ব্যাপক চাহিদার কারণে বৈশ্বিক খেলনা বাজারের অর্থনীতির আকারটাও নেহাত কম নয়।

বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে খেলনার বাজারের আকার প্রায় ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। যার মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের খেলনার বাজারই ইউরোপের দেশ ব্রিটেনের দখলে। বড়দিন উপলক্ষে বছরের শেষ প্রান্তিকে খেলনার বিক্রি পুরো ইউরোপের অর্থনীতিকে চাঙা করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

বড়দিন উপলক্ষে ব্রিটেনের টয় রিটেইলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ড্রিম টয়সের তালিকায় স্থান পেয়েছে ১২টি খেলনা। নিত্যনতুন খেলনা আর এনিমেটেড মুভি তৈরির দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে স্টার ওয়ারস। বড়দিনের এ উৎসবে পরিচিতির জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে আরও প্রতিষ্ঠান। এ সুযোগে চাঙা হয়ে উঠেছে বিশ্বের খেলনার বাজার।

ডিজনি ওয়ার্ল্ডের মুভি ফ্রোজেনের এলসা এবার আসবে সান্তাক্লজের হাত ধরে। বড়দিনে শিশুদের পছন্দের উপহার হিসেবে ব্রিটেনের বাজারে পাওয়া যাবে এলসার খেলনার সেট। এলসার এ সেটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্টার ওয়ারস।

বড়দিন উপলক্ষে এছাড়া আরও অনেক খেলনার সেট ও এনিমেটেড মুভি বাজারে ছেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসবের মধ্যে বেড়েছে আইকনিক স্ফেরো বিবি এইট ও ফোর্স এওয়েকেনসের মতো থ্রিডি মুভির বিক্রি।

পাশাপাশি বেড়েছে মুভিগুলোর চরিত্র অবলম্বনে তৈরি খেলনা ও থ্রিডি উপায়ে চিত্রাঙ্কনের সব উপকরণের সেট। এ কারণে চলতি বছরের অক্টোবরে সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছে স্টার ওয়ারসের খেলনার সেটগুলো। খেলনাগুলো স্থান পেয়েছে ব্রিটেনের ড্রিম টয়সের শীর্ষ ১২টি খেলনার তালিকায়।

খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেকানো তৈরি করেছে এমন একটি হাইটেক রোবট, যেটি আইফোন ও আইপ্যাড দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। চলচ্চিত্র, টিভি সিরিজ আর নিত্যনতুন প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তৈরি খেলনার বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় এ বছর ব্যাপক মুনাফার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

যথাযথ মর্যাদায় সারা বিশ্বে বড়দিন উদ্যাপন

যথাযথ মর্যাদায় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীযের মধ্য দিয়ে গতকাল সারা বিশ্বে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন উদ্যাপিত হয়েছে। যুদ্ধ-সহিংসতার সমাপ্তি আর শান্তির আহ্বান ছিল বিশ্বজুড়ে বড়দিনের প্রার্থনায়। ইতালির ভ্যাটিকানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সহিংসতামুক্ত বিশ্ব গড়ার আহ্বান জানান খ্রিস্টান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।

পৃথিবীর মানুষকে আলোর পথে আনতে পশ্চিমতীরের বেথলেহেমে মা মেরির কোলে জন্মছিলেন যিশুখ্রিস্ট। মঙ্গলবার্তা নিয়ে তার জন্ভূমমিতেই উদ্যাপিত হচ্ছে বড়দিন। চার্চ অব নেটিভিটিতে প্রার্থনায় অংশ নেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যিশুর অনুসারীরা।

ইতালির ভ্যাটিকান সিটিতে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, যুদ্ধ-সহিংসতা, শরণার্থী সংকট আর ক্ষুধা-দারিদ্র্যের কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন পৃথিবী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিশ্ববাসীকে যিশুর দেখানো পথে চলার আহ্বান জানান তিনি।

ইরাকের বারটেলায় বড়দিনের উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইএস মুক্ত হওয়ার আনন্দ। পাকিস্তানের করাচিতে ১০ হাজারেরও বেশি খ্রিস্ট সম্প্রদায়ের মানুষ যোগ দেন বড়দিন উৎসবে।

এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায় তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ক্রিসমাস ট্রি।

তুরস্কে জঙ্গি হামলায় প্রিয়জনকে হারানোর বেদনাকে সঙ্গী করে যিশুকে স্মরণ করেছেন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা। অন্যদিকে ইউরোপের দেশ বেলারুশে শত শত লোক রাস্তায় নেমে আসে সান্তাক্লজের সাজে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে এবারও সাগর সৈকতে বড়দিন উদ্যাপনে মেতে ওঠেন নানা বয়সীরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে বড়দিনে আইএস হামলার শঙ্কায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা।