বিশ্ব বাণিজ্য

বড় পতনের পর ঊর্ধ্বমুখী ধারায় বিশ্ব পুঁজিবাজার

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি হ্রাস নিয়ে উদ্বেগে গত সপ্তাহে বিশ্ব পুঁজিবাজারে বড় পতন হয়েছে। গত সোমবার এ পরিস্থিতি থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার। এদিন বিশ্বের প্রধান সূচকগুলো ছিল ঊর্ধ্বমুখী ধারায়। খবর: এপি।
গত সপ্তাহে বিশ্বের প্রায় সব পুঁজিবাজার সূচক চলতি বছরের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়। যদিও শেয়ার সূচক ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে, তবে গত সপ্তাহের পতনের প্রভাব পুরোপুরি যায়নি। যে কোনো সময় আবার বাজার পতনের ধারায় যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার ইউরোপের পুঁজিবাজারের মধ্যে ফ্রান্সের সিএসি ৪০ এবং লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক উভয়ই এক দশমিক দুই শতাংশের বেশি বেড়েছে। যেখানে জার্মানির ডিএএক্স সূচক বেড়েছে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ। মার্কিন পুঁজিবাজারের ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও বেড়েছে এক দশমিক পাঁচ শতাংশের বেশি।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর বিজনেস ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক জরিপে এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন, মার্কিন প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি অর্থনীতিকে ২০২১ সালের দিকে মন্দায় ফেলে দেবে। গত ফেব্রুয়ারিতে একই জরিপে মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থনীতিবিদ একই মত দিয়েছিলেন। অর্থাৎ অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মন্দার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। এমন প্রতিবেদনের পর তা পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাজারে পতনের পর ট্রাম্প সম্প্রতি নিউ জার্সিতে বলেছেন, তিনি মনে করেন না মন্দার আশঙ্কা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার হ্রাস অব্যাহত রাখবে। সর্বশেষ বৈঠকেও ফেড ২৫ পয়েন্ট বেসিসে সুদহার কমিয়েছে। গত এক দশকে এটিই ছিল সুদ হ্রার কমানোর প্রথম ঘটনা। মূলত এমন আশায় পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক। তারা এ বিষয়টির প্রতি নজর রাখছে। চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণশীল নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে। বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমাতে এ বছর ওয়াশিংটন ও বেইজিং কয়েক দফা বৈঠকও করেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে দুদেশের প্রতিনিধিদের সর্বশেষ দফা বৈঠক হয়। এরপরই টুইটারে ট্রাম্প নতুন করে আরও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপের ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার ফলে ‘কার্যত’ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সব চীনা পণ্যেই শুল্ক বসতে যাচ্ছে।

সর্বশেষ..