মার্কেটওয়াচ

বড় মূলধনি কোম্পানিগুলো সূচক নিয়ন্ত্রণ করে

আমাদের দেশে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী সূচকের গতিবিধি দেখে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু সূচকে সবসময় বাজারের সঠিক চিত্র প্রতিফলিত হয় না। বড় মূলধনি কোম্পানিগুলো অনেক সময় সূচক নিয়ন্ত্রণ করে। তাই বিনিয়োগকারীদের কোম্পানির ব্যবস্থাপনা দক্ষ ও সৎ কি না, ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি কেমন, ক্যাশ ফ্লো আছে কি না, সর্বোপরি শেয়ারটির দাম কোন পর্যায়ে আছে ইত্যাদি বিষয় যাচাই করে বিনিয়োগ করা উচিত। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ছিলেন অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের এমডি খন্দকার আসাদুল ইসলাম রিপন।

আসাদুল ইসলাম রিপন বলেন, আমাদের মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি পুরোনো প্রবণতা রয়েছে। যখন একটি খাত ভালো করে তখন সবার নজর সেদিকেই থাকে। তখন অন্য খাতগুলো বঞ্চিত হয়। ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মার্কেটের ধরনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কেটের টার্নওভার এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার মতো ছিল। বর্তমানে তা কমে ৬০০-৭০০ কোটি টাকার মতো হয়েছে। আমি মনে করি, এটা বাজারে স্বাভাবিক সংশোধন। তিনি বলেন, আমাদের ৫১ বিলিয়ন মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের ২১ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে ওষুধ এবং টেলিকম খাত। সূচক পুঁজিবাজারের নির্দেশক, কিন্তু তা সবসময় আমাদের বাজারের সঠিক চিত্র প্রতিফলিত করে না। বড় মূলধনি কোম্পানিগুলো সূচককে অনেক বেশি প্রভাবিত করে। লক্ষ করলে দেখবেন, টেলিকম খাতের বড় মূলধনি কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়লে সূচকে তার প্রতিফলন ঘটে। সূচক যখন পাঁচ হাজার ৭০০ থেকে ছয় হাজার অতিক্রম করে তখন বড় মূলধনি কোম্পানিগুলো ৭৫ শতাংশের মতো ভ‚মিকা পালন করেছে। কাজেই সূচক অনেক সময় সঠিক বাজারচিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে না। বড়, মাঝারি এবং ছোট মূলধনি কোম্পানিগুলোকে যদি আলাদা করা যেত তাহলে সূচকের গতিবিধি দেখে বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রকৃত চিত্র বুঝতে পারতেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান বা প্রত্যেক বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব সিদ্ধান্তে বিনিয়োগ করেন। তারা ঝুঁকি এবং রিটার্নের হিসাব কষে বিনিয়োগ করেন। এখানে ঝুঁকি নেওয়ার একটি বিষয় আছে। যারা অধিক ঝুঁকি নেন তারা বেশি রিটার্ন পান এবং কম ঝুঁকিতে রিটার্নও অল্প থাকে। স্বাভাবিকভাবে পৃথিবীতে ব্যাংক খাত সব সময় লো পিইতে ট্রেড হয়। আমাদের দেশে স্বাভাবিক পিই হচ্ছে ১৫-এর ওপরে, কিন্তু ব্যাংক খাতের পিই ১০-এর নিচে। সুতরাং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেকে প্রাধান্য দেয় পিইকে। কিন্তু আমার দৃষ্টি কোম্পানির খাত ও প্রবৃদ্ধির ওপরে। প্রথমত, দেখা উচিত কোম্পানির ব্যবস্থাপনা প্রতিশ্রæতিশীল বা সততাপরায়ণ কি না। দ্বিতীয়ত, কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো আছে কি না তা দেখা। তৃতীয়ত, কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি দেখতে হবে। এরপর দেখতে হবে কোম্পানির শেয়ার কী দামে বিক্রি করা হচ্ছেÑকম দামে নাকি বেশি দামে? এ নিয়ম অনুসারে বিনিয়োগ করলে একজন বিনিয়োগকারীর পক্ষে লাভবান হওয়া সহজ হবে। এছাড়া ক্যাপিটাল মার্কেট একটি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট। তাই শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ সব সময় সঞ্চয়ের টাকা থেকে করা উচিত। আর এ বিষয়গুলোতে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..