প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদরে পতন

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার

শেখ আবু তালেব: দেশে অনুমোদিত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪টি। এর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে ২৩টি। গত সপ্তাহে পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের (বন্ধ) সংবাদে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সর্বোচ্চ লোকসান গুনেছে খাতটির শেয়ার। এর প্রভাবে বেশিরভাগ বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদরে পতন হয়েছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সব সূচকে পতন হয়েছে।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর সাপ্তাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে এমন তথ্য। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ-সংক্রান্ত কোনো আইন না থাকায় আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ডিজিএমকে অবসায়ক (লিকুইডিটর) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির দায়ে অবসায়ন হচ্ছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। এজন্য ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শুধু ঋণের অর্থ জমা দিতে পারবে কোম্পানিটি।
দেশের ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বাস্থ্য ভালো যাচ্ছে না কয়েক বছর ধরেই। বিভিন্ন সময়ে এসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু এবার এ খাতের তথ্য বেশি প্রকাশিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। ফলে গত সপ্তাহ শেষে তালিকাভুক্ত ২৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র দুটির শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনটির শেয়ারদরে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাকি ১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরে পতন হয়েছে।
দেশের পুঁজিবাজারে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো মৌলভিত্তিসম্পন্ন। এ কারণে এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা থাকে বেশি। কিন্তু মৌলভিত্তির কোম্পানি বন্ধের খবরে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কারণ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে কোম্পানির দায়দেনা পরিশোধ করার পরে অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলে শেয়ারধারীরা পাবেন।
পিপলস লিজিংয়ের দায় ও দেনা পরিশোধের পরে কোনো অর্থ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজন্য খাতটিতে বিনিয়েগাকারীদের আগ্রহ কম দেখা গেছে গত সপ্তাহে। এতে ডিএসইতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমেছে আগের সপ্তাহের চেয়ে। ফলে ডিএসইর মোট লেনদেনও কমেছে ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ আগের সপ্তাহের চেয়ে।
বড় মূলধনি সব খাতের শেয়ারদর কমায় ডিএসইর সব সূচকে পতন হয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৯১ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৭৫ শতাংশ আগের সপ্তাহের চেয়ে। বাজার মূলধন এক সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে চার হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৫৬টি সিকিউরিটিজ লেনদেনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে ৬৬টির বা ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, কমেছে ২৭৩টির বা ৭৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। শেয়ারদর পরিবর্তন হয়নি ১৫টির ও লেনদেন হয়নি দুটি সিকিউরিটিজের।
শেয়ারদর পতন হওয়ায় বড় মূলধনি প্রতিষ্ঠানের খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ চার দশমিক ৯৯ শতাংশ লোকসান গুনেছে শেয়ারধারীরা। অপরদিকে ডিএসইর মোট লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ১৬ শতাংশ অবদান রেখেছে সাধারণ বিমা খাতের শেয়ার। এর পরই ১০ শতাংশ অবদান রেখে দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাত। এছাড়া মোট লেনদেনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবদান ছিল সাত শতাংশ, ব্যাংক খাতের সাত শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিকের তিন শতাংশ, জীবনবিমা খাতের চার শতাংশ, আইটির এক শতাংশ, টেলিকম খাতের তিন শতাংশ, সিরামিকের দুই শতাংশ ও মিউচুয়াল ফান্ডের ছয় শতাংশ।
একক কোম্পানি হিসেবে ডিএসইতে গেইনারের শীর্ষে ছিল এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড। ফান্ডটির শেয়ারদর গত সপ্তাহে ৫৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। গেইনারের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড। সপ্তাহে ফান্ডটির সর্বোচ্চ দর বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এছাড়া দর বৃদ্ধি হয় ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফিন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, ফরচুন সুজ, এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ্ ফান্ড, ন্যাশনাল পলিমার, বিকন ফার্মা, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স ও ঢাকা ইন্স্যুরেন্সের।
অপরদিকে সপ্তাহ লেনদেন শেষে লোকসানের বা দর পতনের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স। সপ্তাহে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর কমেছে ৩৪ দশমিক ০৯ শতাংশ। দর পতনে শীর্ষ দশে নাম এসেছে ফার্স্ট ফিন্যান্স, ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এমারাল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, আলহাজ টেক্সটাইল মিলস, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ডেল্টা স্পিনার্স ও মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজের।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..