Print Date & Time : 30 May 2020 Saturday 1:29 am

ভয়াবহ পতনে ডিএসইএক্স সূচক ছয় বছর আগের অবস্থানে

প্রকাশ: মার্চ ১৮, ২০২০ সময়- ১২:৩৬ এএম

রুবাইয়াত রিক্তা: পুঁজিবাজারে দুই দিন ধরে ভয়াবহ দরপতন চলছে, যদিও করোনা আতঙ্কে এক দিন বড় পতন হলেও পরদিনই বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু দুই দিনের ব্যবধানে ফের বড় পতনের কারণ জানা যায়নি। তবে পুঁজিবাজারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যংকগুলোর বিশেষ তহবিল গঠন সম্পন্ন হয়েছে। এখন বিনিয়োগের জন্য অপেক্ষা। এর মধ্যে বড় পতনের কারণ হতে পারে বাজারে দরপতন ঘটিয়ে কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ নেওয়া। গত সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৯৬ পয়েন্ট পতন হয়েছে, যা ডিএসইএক্স সূচকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পতন। অন্যদিকে বড় পতনের কারণে সূচক নেমে গেছে প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগের অবস্থানে। ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সূচকটির অবস্থান ছিল তিন হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে।

এদিকে সোমবার ডিএসইর তথ্যমতে ১০টি অথবা ২০টি কোম্পানির দর বেড়েছে। ডিএসইর মার্কেট স্ট্যাটিসটিকস অপশনে ১০ কোম্পানি দেওয়া হলেও দর বৃদ্ধির তালিকায় ২০ কোম্পানির দর বেড়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের এনসিসি ব্যাংকের দর এক দশমিক ৭৫ শতাংশ বা ২০ পয়সা, প্রাইম ব্যাংকের দর এক দশমিক ৪২ শতাংশ বা ২০ পয়সা বেড়েছে। সাত দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে আর্থিক খাতের ফাস ফাইন্যান্স ও সাড়ে চার শতাংশ বেড়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। এছাড়া প্রকৌশল খাতের গ্লোল্ডেন সন ও বিডি ওয়েল্ডিং, বস্ত্র খাতের বেক্সিমকো সিনথেটিকস, ভিএফএস থ্রেড ডায়িং, সাফকো স্পিনিং, বিমা খাতের পপুলার লাইফ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, জ্বালানি খাতের লিন্ডে বিডি, ওষুধ খাতের এসিআই ফরমুলা, রেকিট বেনকিজার, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ড্যাফোডিল কম্পিউটার এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দুই ফান্ডের দর বেড়েছে।

আর ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ কমে দর পতনের শীর্ষে উঠে আসে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের কোম্পানি আইপিডিসি ফাইন্যান্স। এরপরের অবস্থানে থাকা ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ারদর কমেছে ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ। প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর কমেছে ১০ শতাংশ। এচাড়া আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, হাক্কানী পাল্পের ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ, নিউ লাইন ক্লথিংসের ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ শেয়ারদর কমেছে।

সর্বশেষ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের ২৪ শতাংশই ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতে। এরপর প্রকৌশল খাতে ১২ শতাংশ ও বস্ত্র খাতে ১০ শতাংশ লেনদেন হয়। ব্যাংক খাতের লেনদেন বেড়ে আট শতাংশ হয়েছে। জ্বালানি খাতে লেনদেন হয় সাত শতাংশ। অধিকাংশ খাতে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে। ওইদিন লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট ১৪ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬৮ টি শেয়ার ২৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় লেনদেন হয়। এরপরের অবস্থানগুলোতে যথাক্রমে মুন্নু সিরামিকের ১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার, ওরিয়ন ফার্মার ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকার, ব্র্যাক ব্যাংকের আট কোটি ১৯ লাখ টাকার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের সাত কোটি ৭৩ লাখ টাকার, ওরিয়ন ইনফিউশনের সাত কোটি ৬৫ লাখ টাকার, গ্রামীণফোনের সাত কোটি ৬৫ লাখ টাকার, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের সাত কোটি ৫৬ লাখ টাকার, এসকে ট্রিমসের ছয় কোটি ৫২ লাখ টাকার, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের পাঁচ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।