স্পোর্টস

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সুনাম ফেরাতে চান সৌরভ

ক্রীড়া ডেস্ক : নাটকীয়ভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সভায় সভাপতি হিসেবে একক মনোনয়নের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলির নাম। তখন থেকেই গুঞ্জন, সামনে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন থাকায় তৃণমূলের বিপক্ষে বিজেপির হয়ে প্রচারণার শর্তেই কি হলো এমন? কিন্তু ব্যাপারটি তেমন নয় বলেই জানিয়েছেন সাবেক এ ক্রিকেটার। নানা কারণে ভাবমূর্তি সংকটে পড়া বোর্ডের সুনাম ফেরাতেই বিশাল এ দায়িত্ব নিতে চান ভারতের এক সময়ের তারকা এ ব্যাটসম্যান।

গতকালই ছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি পদে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন। কিন্তু এ পদে আর কেউ মনোনয়ন দাখিল করেননি। তাই ভারতীয় ক্রিকেটের সফলতম সাবেক এ অধিনায়কের সভাপতি হওয়া এখন আনুষ্ঠানিকতাই মাত্র।

সভাপতি হতে যাচ্ছেন, এ খবর নিশ্চিত করেছেন সৌরভ নিজেও। এর মধ্যেই ঠিক করে ফেলেছেন কর্মপরিকল্পনা। তবে কোনো শর্তেই কি পাচ্ছেন এমন দায়িত্ব? এ ব্যাপারে মহারাজা বলেছেন, ‘একেবারেই এমন কিছু (বিজেপির হয়ে প্রচারণা) নয়। কেউই এ ব্যাপারে আমাকে কিছু বলেনি।’

বেশকিছু দিন থেকেই অর্থনৈতিক দুর্নীতির কারণে সমালোচনায় ছিল বিসিসিআই। এদিকে আবার দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের বিশ্ব ক্রিকেটে খবরদারিও অন্যান্য দেশের কাছে ছিল অস্বস্তির কারণ। এসবের মধ্যে নৈতিক স্খলনের দায়ে ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ আদালত বোর্ডটির সভাপতি পদ থেকে অনুরাগ ঠাকুরকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সিকে খান্না দায়িত্বে আছেন। তার জায়গাতেই বসতে যাচ্ছেন ‘প্রিন্স অব কলকাতা’। আপাতত সৌরভের লক্ষ্য ফেরাতে হবে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী বোর্ডের সুনাম, ‘বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এই সময়ে প্রেসিডেন্ট হতে পারায় খুশি। কিছু করার জন্য দারুণ সুযোগ পেয়েছি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বি^তায় হোক বা অন্য ভাবেই হোক, এটা মস্ত বড় দায়িত্ব। কারণ, বিসিসিআই বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সংস্থা। ভারত হলো ক্রিকেটের পাওয়ার হাউজ। এ দায়িত্ব তাই রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং।’

২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই বলেছিলেন সৌরভ। আর সব ধরনের ক্রিকেট ছেড়েছিলেন ২০১২ সালে। এরপর সংগঠক হিসেবে শুরু করেন নতুন ক্যারিয়ার। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতি হিসেবে পাঁচ বছর ধরে দায়িত্বে আছেন, কুড়িয়েছেন সুনাম। অধিনায়ক হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেটকে বদলে দেওয়ার নায়ক সৌরভই পেতে যাচ্ছেন দেশটির ক্রিকেটের সবচেয়ে উঁচু আসন। কিন্তু অত বড় পদের চেয়েও দেশের হয়ে ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অধিনায়কত্ব করাই এখনও রাখছেন এগিয়ে, ‘দেশের অধিনায়ক হওয়ার ব্যাপারই আলাদা। সেটার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। তবে আমি কখনও ভাবিনি বোর্ড সভাপতি হতে পারব।’

আপাতত সৌরভের দায়িত্বের মেয়াদ ১০ মাস। এ অল্প সময়ের মধ্যে বেশ বড় একটা কাঠামোগত বদল আনতে চান বাঙালি হিসেবে ভারতের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনে বসতে যাওয়া সৌরভ, ‘এটাই নিয়ম। আমাদের সেটা মেনে নিয়েই চলতে হবে। আমার প্রথম কাজ হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের দিকে নজর দেওয়া। এর আগে এ ব্যাপারে সিওএকে অনুরোধও করেছিলাম। কিন্তু ওরা শোনেনি। রঞ্জি ট্রফির দিকেও ফোকাস থাকবে। ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বার্থের ব্যাপারটা দেখতে হবে।’

সর্বশেষ..