দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

ভারতীয় চার জাতের কুল চাষে সাফল্য কৃষকের

তাপস কুমার, নাটোর: থোকায় থোকায় ধরেছে চার সুন্দরী সুমিষ্ট কুল। নুইয়ে পড়েছে কুল গাছের মাথা। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মামুদপুর গ্রামের মো. হযরত আলী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বেবি সুন্দরী, কাশমেরি সুন্দরী, বল সুন্দরী ও চায়না আপেল নামে নতুন চারটি জাতের বোরোই (কুল) চাষ শুরু করেন। এতে তার সাফল্য সাড়া জাগিয়েছে এলাকায়। ফলন ও দাম ভালো পেয়ে খুশি তিনি। এখন ভিন্ন জাতের কুল দেখতে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা তার জমিতে ভিড় করছেন। এ কুল চাষে চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানা গেছে।

কুলচাষি হজরত আলী জানান, দেশে বিভিন্ন প্রজাতির কুল আছে। তবে সম্প্রতি ভারত থেকে নতুন চারটি জাতের কুলের চারা এনে চার বিঘা জমিতে রোপণ করেন তিনি। এতে দুই লাখ টাকা খরচ করে সাত মাসেই ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত চার লাখ ২০ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। এছাড়া কুলগুলো দেখতে বেশ সুন্দর ও সুমিষ্ট। আরও ৫০ হাজার টাকার কুল বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, বেবি সুন্দরী, কাশমেরি সুন্দরী, বল সুন্দরী ও চায়না আপেল জাতের তিন ফুট সাইজের ছোট ছোট কুল গাছের চারা ২০২০ সালের জুলাইয়ে সংগ্রহ করেন তিনি। ভারত থেকে সংগ্রহ করে চার বিঘা জমিতে রোপণ করে পরিচর্যা শুরু করেন এই সৌখিন চাষি। এর মধ্যে বেবি ও বল সুন্দরী দেখতে আপেলের মতো, দুই দিক বসা। এর মধ্যে একটি কুলের ওজন ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম। কাশমেরি সুন্দরী কুলের ওজন ৯০ থেকে ১১০ গ্রাম। চায়না সুন্দরী দেখতে কিছুটা লম্বা আপেলের মতো, একটি কুলের ওজন ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গুরুদাসপুরের মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রথম বছর হজরত আলীর বাগানে কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। নতুন এ কুল চাষে অধিক লাভ হওয়ায় এলাকার চাষিদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় কৃষক আয়নাল হক, লিটন আলী, সাদ্দাম হোসেনসহ অনেকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এসব জাতের প্রতি মণ কুল বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩৮০০ টাকা পর্যন্ত।

উপজেলা কৃষি অফিসার হারুনুর রশিদ বলেন, ‘নতুন জাতের কুলের ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় আশাবাদী কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। কুলের স্বাদ ও মিষ্টতাসহ ফলন ও চাহিদা বাড়ায় এলাকায় সাড়া ফেলেছে, আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এ কুল চাষে কৃষকের পরামর্শ ও উৎসাহ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। দেশি কুলের তুলনায় অল্প সময়ে স্বল্প খরচে এ কুল উৎপাদন হওয়ায় বেশি-লাভবান হচ্ছে চাষি। ফলে এ কুল চাষ বাড়বে।’

ভিন্ন চারটি জাতের কুল চাষ সম্প্রসারণে বাগানেই কলম তৈরি করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষক। আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ কুলের চাষ সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..