প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ভারতীয় ট্রাকের সর্ববৃহৎ বাজার বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক গাড়ির ৯০ শতাংশ ভারতীয় কোম্পানির দখলে। ভারতীয় গাড়ি শিল্পের (অটোমোবাইল) জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। দেশটির ট্রাক রফতানির সর্ববৃহৎ বাজার বাংলাদেশ। তবে, ভারতীয় প্রাইভেট কার আমদানিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ২৩তম। প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে এখনও জাপানি রিকন্ডিশনন্ড গাড়িই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে ভারতীয় গাড়ির প্রচারের লক্ষ্যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় গাড়ি উৎপাদক সংস্থা (এসআইএএম) তিন দিনব্যাপী এক প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভারতীয় প্রাইভেটকার, বাস, মোটর সাইকেল, ট্রাকসহ শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী করা হবে। এ সময় গাড়িশিল্প উন্নয়নের নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়নে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে প্রশিক্ষণ দেবে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা। তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজনে ভারতের হ্যাভি ইন্ডাস্ট্রিজ ও পাবলিক এন্টারপ্রাইজেসবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন, বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সংগঠন- এফবিসিসিআই, ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (আইবিসিসিআই), অটোমোটিভ কমপোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসিএমএ), বাংলাদেশ অটোমোবাইল অ্যাসেম্বেলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মোটর সাইকেল অ্যাসেম্বেলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি ও নিটল মোটর্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ, বিএএএমএ সভাপতি ও রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, বিএমএএমএ সভাপতি ও উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, আইবিসিসিআই’র সিইও জাহাঙ্গীর বিন আলম, ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধি সেন্তেন নরডন কারগিয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আয়োজক প্রতিষ্ঠান এসআইএএম-এর উপ-পরিচালক সুগত সেন ভারতীয় গাড়ি শিল্প ও তার আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘ভারতের জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বাংলাদেশে কারখানা গড়ে উঠলে উত্তর-পূর্বের অঞ্চলগুলোতেও তা সরবরাহ করা যেতে পারে। তিনি একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ভারতীয় ট্রাক রফতানির সর্ববৃহৎ বাজার বাংলাদেশ। এছাড়া ভারতীয় বাস আমদানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম। তবে, ভারতীয় প্রাইভেট কার আমদানিতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ২৩তম। সার্বিকভাবে বাংলাদেশ হলো ভারতীয় গাড়ি শিল্পের চতুর্থ বৃহৎ বাজার। প্রাইভেটকারের ক্ষেত্রে এখনও জাপানি রিকন্ডিশনন্ড গাড়িই জনপ্রিয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবে অশোক লেল্যান্ড, বাজাজ অটো, আইশার ট্রাক্স অ্যান্ড বাসেস, হিরো মোটরস, হোন্ডা মোটরসাইকেল, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা, মারুতি সুজুকি, পিয়াজিও, রেনো, রানার অটোমোবাইলস, এসএমএল ইসুজু, টাটা মোটরস, টিভিএস মোটরস, ইয়ামাহা। এছাড়া কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশের সহযোগীরা যেমন- এসিআই মোটরস, আফতাব অটোমোবাইলস, বাংলাদেশ হোন্ডা, ইফাদ অটোস, কর্ণফুলী, নিলয় মোটরস, নিটল মোটরস, র‌্যাঙ্কস মোটরস, রানার মোটরস, টিভিএস অটো বাংলাদেশ, উত্তরা মোটরস। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উম্মক্ত থাকবে। প্রদর্শনী উপলক্ষে রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় ফ্রি বাস সার্ভিস দেওয়া হবে।

আবদুল মাতলুব আহ্মাদ বলেন, ‘৩০ বছর আগে দেশে ৯৫ ভাগ গাড়ি আসতো জাপান ও লন্ডন থেকে। ইতালি থেকেও আসতো। এখনও প্রাইভেট কার ব্যবসায় জাপানি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ প্রায় ৯০ ভাগ। তবে, এখন বাণিজ্যিক গাড়িতে ভারতীয় কোম্পানি জনপ্রিয় হয়েছে।’

দেশে গাড়ি তৈরির শিল্প নেই কেন এমন এক প্রশ্নের জবাবে মাতলুব বলেন, দেশে যতদিন রিকন্ডিশনন্ড গাড়ি আমদানি হবে, ততদিন গাড়ি তৈরির শিল্প গড়ে উঠবে না। তবে এ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা চলছে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত একটি ভালো নীতিমালা গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। যার মাধ্যমে দেশি কোম্পানিগুলো আরও এগিয়ে যাবে।

বিএমএএমএ’র মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশে নিজস্ব গাড়ি তৈরির শিল্প গড়ে তোলার জন্য ভারতের কাছ থেকে প্রযুক্তি গ্রহণের লক্ষ্যে আগামী দুই বছরের মধ্যে বেশ কয়েকটি কারখানা গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যে যশোরে বেশ কিছু অ্যাসেম্বিলিং সেন্টার গড়ে উঠেছে।