দিনের খবর প্রথম পাতা

ভারতের আপত্তিতে কমছে সড়ক ব্যবহার মাশুল

ইসমাইল আলী: বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারে ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর চুক্তি সই করে ভারত। এর আওতায় গত জুলাইয়ে পরীক্ষামূলক পণ্য পরিবহন করা হয়। তবে সে সময় সড়ক ব্যবহারে কোনো ফি ছিল না। পরে প্রতি কিলোমিটারে টনপ্রতি দুই টাকা ১০ পয়সা হারে সড়ক ব্যবহার ফি প্রস্তাব করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। তবে এ প্রস্তাবে আপত্তি করে ভারত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি কিলোমিটারে টনপ্রতি ফি কমিয়ে এক টাকা ৮৫ পয়সা প্রস্তাব করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে এ বিষয়ে আজ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

সূত্রমতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত ‘এগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট পল মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফ্রম ইন্ডিয়া’র আওতায় স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সই করা হয় ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর। চুক্তির আর্টিকেল ৬-এ বন্দর ব্যবহারের জন্য আটটি রুটের উল্লেখ রয়েছে। আর আর্টিকেল ৮-এ পণ্য পরিবহনের জন্য সড়ক ব্যবহারের ফি আদায় করা যেতে পারে।

এদিকে বন্দর ব্যবহার নিয়ে গত ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের নৌ-সচিবের নেতৃত্বে ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমিটির (আইজিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় শুধু সড়কের জন্য এক টাকা ৮৫ পয়সা ও কনজিশন ফি ২৫ টাকাসহ সড়ক ব্যবহারে মোট দুই টাকা ১০ পয়সা ফি প্রস্তাব করা হয়।

পরে ওই বছর ২৪ ডিসেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে সড়ক ব্যবহার মাশুল কমিয়ে প্রতি কিলোমিটারে টনপ্রতি দুই টাকা প্রস্তাব করা হয়। সে সময় আটটি রুটের সম্ভাব্য মাশুলও নির্ধারণ করা হয়। পরে গত বছর ৯ আগস্ট তা প্রস্তাব আকারে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সূত্র আরও জানায়, গত ২৯ ডিসেম্বর ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎকার করে। সে সময় প্রতি কিলোমিটারে সড়ক ব্যবহার ফি টনপ্রতি এক টাকা ৮৫ পয়সা নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিলোমিটারপ্রতি সড়ক ব্যবহার ফি ও মাঝারি ট্রাকের (১৫ টন) মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ হিসাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়কপথের দৈর্ঘ্য ২৩০ কিলোমিটার। এ রুটে সেতু বাদ দিয়ে সড়কের দৈর্ঘ্য দাঁড়াবে ২১৮ কিলোমিটার। এ রুটে ১৫ টনের ট্রাকে সড়ক ব্যবহার মাশুল ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৭০ টাকা। একইভাবে চট্টগ্রাম বন্দর-শেওলা রুটে সড়কপথের দৈর্ঘ্য ৪২৭ কিলোমিটার। এ রুটে ১৫ টনের ট্রাকে সড়ক ব্যবহার মাশুল ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫৯৩ টাকা। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর-বিবিরবাজার রুটের দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার ও চট্টগ্রাম বন্দর-তামাবিল রুটের দৈর্ঘ্য ৪৪২ কিলোমিটার। এ দুই রুটে ১৫ টনের ট্রাকে সড়ক ব্যবহার মাশুল ধরা হয়েছে যথাক্রমে তিন হাজার ৯৮৮ টাকা ও ১০ হাজার ৯ টাকা।

এদিকে মোংলা বন্দর-আখাউড়া রুটে সড়কপথের দৈর্ঘ্য ৩৪৯ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এ রুটে সেতু নেই। এতে সড়ক ব্যবহার মাশুল দাঁড়াবে ৯ হাজার ৬৯৯ টাকা। একইভাবে মোংলা বন্দর-বিবিরবাজার রুটে ৩১৩ কিলোমিটারে মাশুল দাঁড়াবে আট হাজার ৬৮৬ টাকা। তবে মোংলা বন্দর-শেওলা রুটে সেতু রয়েছে। ফলে এ রুটে ৪৯৪ কিলোমিটারের জন্য মাশুল পড়বে ১১ হাজার ৭৭৯ টাকা। একইভাবে মোংলা বন্দর-তামাবিল রুটে সেতুসহ ৫০৯ দশমিক ৫০ কিলোমিটারে মাশুল পড়বে ১২ হাজার ১৯৫ টাকা ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারতের পণ্য বাংলাদেশের অভ্যন্তর দিয়ে চলাচলের ফলে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়বে। এতে সড়কের আয়ুষ্কাল কমবে, স্থায়িত্ব দ্রুত নষ্ট হবে ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়বে। এসব বিষয় বিবেচনা করে সড়ক ব্যবহার মাশুল আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুধু সেতুগুলোর টোল যুক্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক-মহাসড়ক ব্যবহারে পর্যায়ক্রমে টোল আরোপের কার্যক্রম চলছে। সে সময় বাংলাদেশের মতো ভারতের পণ্যবাহী ট্রাকের ওপরও সড়ক ব্যবহার টোল আরোপ করা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..