শেয়ার বিজ ডেস্ক : ভারতের রাজস্থানে চলন্ত বাসে আগুন লেগে অন্তত ২০ যাত্রী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৬ জন। বিকেলে জয়সালমির-যোধপুর মহাসড়কের থাইয়াত গ্রামের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের প্রথমে জয়সালমিরের জওয়াহর সরকারি হাসপাতালে এবং পরে যোধপুরে স্থানান্তর করা হয়। আহতদের বেশিরভাগেরই শরীরের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জয়সলমির থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে যুদ্ধ জাদুঘর এলাকা পার হওয়ার সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার বাসটির পেছনের অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। বাসটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ৫৭ জন যাত্রী ছিলো। দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে লাগা আগুন দ্রুতই পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রচণ্ড তাপের কারণে উদ্ধারকাজ বিলম্বিত হওয়ায় নিহতদের মরদেহ সন্ধ্যা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরেই ছিল। দুর্ঘটনাস্থলেই ১৯ জন মারা যান এবং যোধপুরে নেয়ার পথে আরো একজনের মৃত্যু হয়। তবে আগুনের কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জয়পুরে তার সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং খিমসারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি বিশেষ বিমানে করে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য জয়সলমিরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পরে আহতদের দেখতে তার যোধপুর যাওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা কৃষ্ণপাল সিং রাঠোর জানান, দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাসটি সম্পূর্ণরূপে আগুনে পুড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘যদিও আমাদের দল আগুন নিভিয়ে ফেলে, ধারণা করা হচ্ছে ১০ থেকে ১২ জন যাত্রী ভেতরেই জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আগুন থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে বেশ কয়েকজন যাত্রী চলন্ত বাস থেকেই লাফিয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার পর থাইয়াত গ্রামের বাসিন্দা ও পথচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ছুটে আসেন।
এস এস/
প্রিন্ট করুন




Discussion about this post