প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি হলেন রামনাথ কোবিন্দ

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি হলেন রামনাথ কোবিন্দ। বিজেপির এ প্রার্থী মোট চার লাখ ৭৯ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটের ৬৫ শতাংশ। পার্লামেন্ট হাউজ ও ১১টি রাজ্যের ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার দেশটির নির্বাচন কমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া সূত্রে জানা যায়, রামনাথ কোবিন্দ নির্বাচনে ৬৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তার বিজয় সুনিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মিরা কুমার পেয়েছেন ৩৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ ভোট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী একজন জানান, কোবিন্দ দুই হাজার ৯৩০ ভোট পেয়েছেন, যা সাত লাখ দুই হাজার ৪৪ ভোট মূল্যমানের। মিরা কুমার পেয়েছেন এক হাজার ৮৪৪ ভোট, যা তিন লাখ ৬৭ হাজার ৩১৪ ভোট মূল্যমানের। ফলে ভারতের বর্তমান বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব ম্খুার্জির পর রাইসিনা হিলের পরবর্তী বাসিন্দা এখন হতে যাচ্ছেন কোবিন্দই।

ভারতে সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বেশ পার্থক্য রয়েছে। যেখানে সাধারণ নির্বাচনে একটি ভোটের মূল্য এক, সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদাতাদের ভোটের মূল্য এক জটিল পদ্ধতিতে নির্ধারিত হয়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য যারা, তাদের একেকজনের ভোটের মূল্য ৭০৮। রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের ভোটের মূল্য নির্ধারিত হয় সেই রাজ্যের বিধানসভার মোট আসন ও জনসংখ্যার নিরিখে। সবচেয়ে বেশি ভোট-মূল্য উত্তর প্রদেশের বিধায়কদের, ২০৮। সবচেয়ে কম সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের বিধায়কদের, ৮। এবারের ভোটে সাংসদেরা ভোট দেন সবুজ ব্যালটে। বিধায়কেরা গোলাপি ব্যালটে। রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদস্যরা এ ভোটে অংশ নিতে পারেন না। এবারের ভোটে অংশ নেন লোকসভার ৫৪৩ ও রাজ্যসভার ২৩৩ জন সদস্য এবং দেশের মোট ২৯টি রাজ্য এবং দিল্লি ও পদুচেরি দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট চার হাজার ১২০ জন বিধায়ক। সব ভোটদাতার ভোট ধরলে এবারের নির্বাচনে মোট ভোট-মূল্য ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৯০৩। এর মধ্যে সাংসদদের ভোট-মূল্য পাঁচ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৮, বিধায়কদের পাঁচ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৫।

ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ একজন দলিত সম্প্র্রদায়ের মানুষ। নির্বাচনী প্রচারের সময় কৃষকের সন্তান ৭১ বছর বয়সী কোবিন্দর সাদাসিদে জীবনযাপনকে তুলে ধরেছিলেনন বিজেপি নেতারা। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের পরিচিত আইনজীবী রামনাথ বিহারের গভর্নর ছাড়াও দুই দফা রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৪৫ সালে উত্তর প্রদেশের কানপুর দেহাতে তার জন্ম। ২০১৫ সালের ৮ আগস্ট বিহারের রাজ্যপাল নিযুক্ত হন রামনাথ। কানপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাণিজ্য ও আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে এই দলিত নেতা উত্তর প্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সদস্য হন। ২০০৬ সালের আগ পর্যন্ত দুই মেয়াদে ১২ বছর তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন।

রামনাথ ১৯৭১ সালে দিল্লির বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত হন। তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রামনাথ দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করা বিজেপির ইউনিট বিজেপি দলিত মোর্চার সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি অল ইন্ডিয়া সমাজের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি দলের জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের শীর্ষ সহযোগী হিসেবেও কাজ করেছেন রামনাথ।

রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি দলিত সম্প্র্রদায়ের জন্য লড়ে এসেছেন। ২০১৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তাকে বিহারের গভর্নর নিযুক্ত করেন। এ বছর ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি বিহারের গভর্নর পদে ইস্তফা দেন। আর তারপর এ নির্বাচনে জয়ী হলেন তিনি। কোবিন্দ এমন একটি সময়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন যখন তার দলের বিরুদ্ধে দলিত সম্প্রদায়কে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।