দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ভারতের নাগরিকত্ব আইন বাংলাদেশের জন্য হুমকি: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে (সিএবি) বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নাগরিকত্ব আইনকে ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনীতির যে বিষয়গুলো ছিল, সে বিষয়গুলো এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি  প্রতিষ্ঠা করার জন্য এটা হয়েছে।’

গতকাল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সকালে মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক সাংবাদিকের প্রশ্নে এ বিষয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকেই বলে আসছি এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমরা এটাকে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে মনে করছি।’

প্রসঙ্গত, নানা বিতর্কের মধ্যে গত আগস্টে ভারতের আসামের চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশ হলে দেখা যায়, রাজ্যটির বাসিন্দা ১৯ লাখ মানুষের নাম সেখানে স্থান পায়নি। নাগরিকপঞ্জিতে বাদ পড়াদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভারত থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে ইঙ্গিত দেন, আসামের ওই তালিকা বাতিল করা হবে। পুরো ভারতের সঙ্গে নতুন করে নাগরিকপঞ্জি হবে আসামে। এরপর দেশটির ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে তা আইনে পরিণত হয়। এতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে গিয়ে শরণার্থী হওয়া হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যে অবস্থার তৈরি হয়েছে এ অবস্থাটা বাংলাদেশে শুধু নয়, সমগ্র উপমহাদেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে, সংঘাতের সৃষ্টি করবে।’

বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সময় এদিন বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে এসে মির্জা ফখরুল তার দলের চেয়ারপারসনের বন্দিদশার জন্য সরকারকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা একটা গণতন্ত্রবিহীন, গণতন্ত্রের অধিকারবিহীন একটি অবস্থার মধ্যে আছি। আজকে আমাদের নেত্রী কারাগারে, মিথ্যা মামলায় যখন আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। মিথ্যা মামলা দিয়ে গণতান্ত্রিক দলগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বিএনপিকে ‘নির্মূল’ করার চেষ্টা হচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সময়ে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পুরো জাতির ঐক্য। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

পাওয়া গেছে। এক কথায় মেলা সফল। তিনি বলেন, এ ধরনের মেলা আয়োজনের জন্য সব ভ্যাট কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তারা এটি করবেন। এ মেলা নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকে সহজ করবে বলেও জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..