বিশ্ব বাণিজ্য

ভারতের বয়কট সত্ত্বেও দাম বেড়েছে মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: তৃতীয় বৃহত্তম পাম অয়েলের বাজার ভারত সম্প্রতি মালয়েশিয়ার তেল বয়কটের ডাক দিয়েছে। কিন্তু এর প্রভাব পড়েনি দেশটির বাজারে। বরং গত শুক্রবার সাপ্তাহিক হিসাবে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম ছিল পণ্যটির। খবর: বিজনেস রেকর্ডার।

বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে ফিউচার মার্কেটে শুক্রবার প্রতি টন পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৩৯৮ রিঙ্গিতে। আগের দিনের তুলনায় এটি দশমিক ছয় শতাংশ বেশি। গত সপ্তাহে পণ্যটির দাম বেড়েছে সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ। ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বরের পর এটিই পণ্যটির সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক দরের উত্থান।

সাধারণত ডলারের বিপরীতে মালয়েশিয়ার রিঙ্গিতের দামের ওঠানামার ওপর বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পাম অয়েলের চাহিদা নির্ভর করে। আর এ কারণে পণ্যটির দামে প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সবজাতীয় ভোজ্যতেলের দামে হ্রাস-বৃদ্ধির কারণেও পাম অয়েলের দামে পরিবর্তন আসে। কিন্তু এবার দামের উত্থানের কারণ চলতি অক্টোবরের রফতানি উপাত্ত। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পাম অয়েল রফতানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ।  

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর (জম্মু-কাশ্মীর) ইস্যুতে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। এ কারণে দেশটির পাম অয়েল বয়কট করেছে ভারত। তবে এ প্রসঙ্গে মাহাথির মোহাম্মাদ বলেছেন, ভারতের এ বাণিজ্যযুদ্ধের পরও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। 

চলতি বছরের আগস্ট মাসে ভারতের সংবিধান থেকে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর রাজ্যের মুসলমানদের ওপর নয়াদিল্লির পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন মাহাথির মোহাম্মাদ। গত মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে মাহাথির মোহাম্মাদ বলেন, জম্মু-কাশ্মীরে আগ্রাসন চালিয়েছে ভারত। এ কারণেই মূলত মালয়েশিয়ার পাম অয়েল বয়কট করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মাহাথির মোহাম্মাদ বলেন, আমরা আমাদের মনের কথা বলেছি এবং তা থেকে পিছু হটব না। আমরা যা বলছি তা হচ্ছে, আমাদের সবারই জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে চলা উচিত। এদিকে পাম অয়েল বয়কটের বিষয়ে ভারতের ঘোষণার কারণে কুয়ালালামপুর ও নয়াদিল্লির ভেতরে বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাম অয়েল রফতানিতে শুল্ক কমিয়ে আনতে চায় মালেয়শিয়া। রফতানি বাড়াতে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে শুল্ক কমিয়ে দেবে দেশটির সরকার। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১৩ সালে রফতানিতে শুল্ক আরোপের পর এ প্রথম এটি সংশোধনের পদক্ষেপ নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।

সর্বশেষ..