ভারতের লাল তালিকা থেকে সরলো বাংলাদেশ

ওমিক্রন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কভিড-১৯-এর নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রেক্ষাপটে ভারত যে ‘লাল তালিকা’ তৈরি করেছে, সেখান থেকে বাংলাদেশের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে জানা যায়, করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরন প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ নেয় ভারত। বাংলাদেশকে ওই তালিকাভুক্ত করে ভ্রমণে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এমনকি পূর্ণ ডোজ টিকা নেয়া ভ্রমণকারীদের জন্য যে ছাড় দেয়া হচ্ছিল, সেটিও বাতিল করা হয়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়েছে আরও কয়েকটি দেশে। ওমিক্রন ধরা পড়া দেশগুলোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারত।

গত রোববার তৈরি করা ভারত সরকারের ওই তালিকায় ছিলÑযুক্তরাজ্য, গোটা ইউরোপ ও আরও ১১টি দেশ বা অঞ্চল। সেগুলো হলোÑবাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, চীন, মরিশাস, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, সিঙ্গাপুর, হংকং ও ইসরাইল।

ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশগুলো থেকে ভ্রমণকারী অথবা ট্রানজিটগ্রহীতাদের ভারতে পৌঁছানোর পরপরই আরটি-পিসিআর টেস্ট করাতে হবে এবং এর ফল আসা পর্যন্ত বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করতে হবে।

ভ্রমণকারীদের কেউ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলে ভারত সরকারের নির্ধারিত জায়গায় আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানেই থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ভ্রমণকারী ওমিক্রন বা করোনার অন্য যে কোনো ধরনেই আক্রান্ত হোন না কেন, সবারই আইসোলেশনে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই কেবল তারা ছাড়া পাবেন।

‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ওই দেশগুলো থেকে যাওয়া ভ্রমণকারীরা করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হলেও তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা এবং অষ্টম দিনে করোনা টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক। ওই পরীক্ষায় তারা করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হলে ভারত সরকারের কভিড-১৯ হেল্পলাইনে তা জানাতে হবে। এছাড়া ভ্রমণকারীদের সবশেষ ১৪ দিনের ভ্রমণবৃত্তান্তও জমা দিতে হবে।

কভিড-১৯-এর কারণে কর্মচ্যুত এবং স্বদেশে ফিরে আসা সব অভিবাসী কর্মীকে দ্রুত স্বাগতিক দেশগুলোয় চাকরিতে পুনর্বহাল করার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। গত সোমবার জেনেভায় অন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চাকরির নিশ্চয়তাসহ সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাগতিক দেশগুলোকে আহ্বান জানান।

মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব অভিবাসী কর্মীর জন্য দ্রুত কভিড-১৯ টিকা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অভিবাসী কর্মীরা তাদের স্বদেশ এবং স্বাগতিক দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাদের আয়ের মাধ্যমে লাখ লাখ পরিবারের জীবিকার সংস্থান হয়।’

এ সময় করোনা মহামারির কারণে চাকরি হারিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসা অভিবাসী কর্মীদের পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী সবাইকে অবহিত করেন।

আইওএম’র মহাপরিচালক এন্তোনিও ভিতোরিনো সভায় সভাপতিত্ব করেন। কলম্বিয়া, ফিলিপাইন ও ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতিসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা সভায় যোগ দেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯১৪০  জন  

সর্বশেষ..