দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জ্ঞানপাপীরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ‘ভারতের সঙ্গে করা সাম্প্রতিক চুক্তি নিয়ে জ্ঞানপাপীরা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পাশাপাশি তার জবাব দিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। খবর: বিডিনিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার ও এলপিজি রফতানির সুযোগ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের মাঝে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্য জেনে-শুনে জ্ঞানপাপীরা কথা বলে যাচ্ছে।’
ত্রিপুরা রাজ্যকে ফেনী নদীর পানি ব্যবহার করতে দেওয়ার ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের একটা জায়গা সাবরং। সেখানে থাকা মানুষের পান করা পানির অভাব। এত দীর্ঘ নদীটা যার অধিকাংশ বর্ডার এলাকায়। সেখানকার নদী মানে নদীতে সমান অংশীদার। ভারত এবং বাংলাদেশের। সেখান থেকে তারা একটু খাবার পানি নেবে। সেইটা নিয়েই ‘নদী বেচে দিলাম’, ‘নদী বেচে দিলাম’ ইত্যাদি ইত্যাদি খুব আন্দোলন স্লোগান বক্তৃতা। একটা মানুষ যদি পান করার জন্য পানি চায়, ও তো দুশমন হলেও মানুষ দেয়। মাত্র ১.৮২ কিউসেক পানি নেবে তারা। সেটার জন্য এত কান্নাকাটি করার কী আছে?”
এলপিজি রফতানি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চিৎকার করছে ‘গ্যাস বিক্রি’, ‘গ্যাস বিক্রি’। এলপিজি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। সেটা আমাদের দেশের কিন্তু না। বিদেশ থেকে আমদানি করি। এখানে সিলিন্ডারে ভরা হয়। তারপরে সেটা সব জায়গায় আমরা দিয়ে দিই, যাতে গ্যাসে সবাই রান্না করতে পারে। সেখান থেকে কিছু গ্যাস যাবে আমাদের ত্রিপুরায়। এটা তো আমরা আমদানি করে বোতলজাত করে রফতানি করছি। আরেকটা রফতানিপণ্য বাড়ছে। বাংলাদেশের যেসব ব্যবসায়ীরা (রফতানি) করবে, লাভবান তারাই হবে। আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। এটা নিয়ে একটা চিৎকার এবং স্লোগান এবং অনেক কিছু হয়ে যাচ্ছে। কাজেই যাব কোথায়।”
‘ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেখান থেকে আমরা ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। তাদের প্রাকৃতিক গ্যাসে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আমরা নিয়ে আসছি। বিনিময়ে আমরা এলপিজি তাদের দিচ্ছি। লাভ-লোকসান হিসাব করলে বাংলাদেশেরই লাভ বেশি।’
‘ত্রিপুরাকে সহায়তা করার পেছনে ঐতিহাসিক কারণ’ হিসেবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এ ত্রিপুরাবাসী আমাদের দেশের শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল, খাদ্য দিয়েছিল, বাসস্থান দিয়েছিল।’
এ সময় বিরোধীদের কথার জবাব জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যখন কথা বলবেন, অনেক সময় প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন। সংগঠন করতে গেলে অনেকেই বিরুদ্ধে কথা বলে। কথায় কথায় তারা বলে কি ভোট দিয়ে সরকার আসে নাই। জনগণের ভোটে যদি নির্বাচিত না হতাম … আজকে যদি জনগণ আমাদের ভোট না দিত, তাহলে তো বিরোধী দল আন্দোলন করে আমাদের নামাতে পারত। এ পর্যন্ত তারা কিছুই তো করতে পারল না।’
‘১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের’ কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আরও বলেন, ‘ভোটারবিহীন ভোট করেছিল। জনগণ ভোট দেয় নাই। সারা দেশে সেনাবাহিনী নামিয়ে এবং সব এজেন্সি দিয়ে ফলাফল ঘোষণা করে তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী! সেই তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী কতদিন ক্ষমতায় ছিল? দেড় মাস। দুই মাসও থাকতে পারেনি। কেন পারে নাই। ভোট চুরি করেছিল বলে জনগণ টেনে নামিয়েছিল আন্দোলন করে।”
ফেনী নদীর পানি ইস্যুতে বিএনপির সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এত কাঁদছেন, তাদের জিজ্ঞেস করি গঙ্গার পানি আনার কথা। খালেদা জিয়া দিল্লি গিয়ে ভুলে গেল। কেউ তো আনল না। তিস্তায় ব্যারাক দিল ভারতকে শিক্ষা দেবে। এখন শিক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে ভিক্ষা চাইতে হচ্ছে। এ নীতি ছিল এরশাদের। জিয়াউর রহমান হাঁটু গেড়ে বসে থাকত, তার ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে। কোনো কথা বলত না, যা কথা বলত, হুবহু তা-ই শুনে আসত। আমরা গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা এনেছি। আমরা পানি চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি। স্থল সীমানা চুক্তি আমরা করেছি, সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার আমরা রক্ষা করতে পেরেছি।’
এ সময় বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি মেনে নেওয়ার পরও তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সাধারণ ছাত্ররা যারা, তাদের ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছে ভিসি। তারপরও নাকি তারা আন্দোলন করবে। কেন করবে, জানি না। এরপর আন্দোলন করার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে।’
আবরার হত্যাকাণ্ডের পর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে। আমরা তো পিছিয়ে থাকিনি। কোন দল করে, সেটা না, খুনিকে খুনি হিসেবে দেখি। অন্যায়কারীকে অন্যায়কারী হিসেবে দেখি। অত্যাচারীকে অত্যাচারী হিসেবে দেখি। খবরটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারও আন্দোলনের অপেক্ষা করিনি। কারও নির্দেশের অপেক্ষা করিনি, সঙ্গে সঙ্গে আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি যে এদের গ্রেফতার করা এবং ভিডিও ফুটেজ থেকে সব তথ্য সংগ্রহ করতে।’
তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের ‘বিপদে’ পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ ভিডিও ফুটেজ যখন সংগ্রহ করছে তখন তারা বাধা দিয়েছিল, কেন বাধা দিয়েছিল, আমি জানি না। আমার কাছে পুলিশের আইজিপি ছুটে এল … কী করব। বললাম, তারা কী চায়। বলল, কপি চায়। বললাম কপি করে তাদের দিয়ে দাও। তোমরা তাড়াতাড়ি ফুটেজটা নাও। এটা নিলেই তো আমরা আসামি চিহ্নিত করতে পারব, ধরতে পারব, দেখতে পারব এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারব। এ তিন-চার ঘণ্টা সময় যদি নষ্ট না করত, তাহলে তার আগেই হয়ত অনেকে পালাতে পারত না, তারা ধরা পড়তে পারত। এখানে সন্দিহান হওয়ার কিছু ছিল না। বিষয়টা কী আমি জানি না। সন্দিহান, না কি যারা জড়িত তারা বাধা, কোত্থেকে কী করেছে, বুঝতে পারি না। মনে হলো যেন আসামিদের চলে যাওয়ার একটা সুযোগই করে দেওয়ার … না কি ছিল … ওই আন্দোলন যারা করেছে তারা বলতে পারবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি কিন্তু এক মিনিট দেরি করিনি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি, এ ধরনের অন্যায় করলে কখনও তা মেনে নেওয়া যায় না।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্র ঢোকানোর জন্য সামরিক শাসকদের দায়ী করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়ার আমল থেকে শুরু করে এরশাদের আমলে, সবসময় ছিল একটা অস্ত্রের ঝনঝনানি। মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। হিজবুল বাহার নামে যে জাহাজ জাতির জনক বাংলাদেশের জনগণকে হজ করতে পাঠাত, হজ করা বন্ধ করে দিয়ে সেটা হয়ে গেল প্রমোদতরী।’

ট্যাগ »

সর্বশেষ..