বিশ্ব বাণিজ্য

ভারতে গাড়ি বিক্রি ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে

শেয়ার বিজ ডেস্ক: খারাপ সময় পার করছে ভারতের গাড়ি শিল্প। গত আগস্টে দেশটিতে গত ২১ বছরে মধ্যে সবচেয়ে কম গাড়ি বিক্রি হয়েছে। সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার (এসআইএএম) সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর: আনন্দবাজার।
এসআইএএমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রিই সবচেয়ে কম হয়েছে। আগস্টে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি কমেছে ৩১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত বছর আগস্টে যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি হয়েছিল দুই লাখ ৮৭ হাজার ১৯৮টি। চলতি বছরের আগস্টে বিক্রি হয়েছে এক লাখ ৯৬ হাজার ৫২৪টি। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে বিক্রি।
এছাড়া ইউটিলিটি ভেহিকলের বিক্রি গত বছরের আগস্টের তুলনায় ২২ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ১৪ হাজার ১৯৬টি। গত বছরের আগস্টে যেখানে বিক্রি হয়েছিল ১৯ লাখ ৪৭ হাজার ৩০৪টি গাড়ি। স্কুটার ও মোটরসাইকেলে বিক্রি কমেছে ২২ শতাংশ। সব মিলিয়ে হিসাব করলে দাঁড়য়, গত বছর আগস্টে যেখানে সব ধরনের গাড়ি মিলিয়ে মোট বিক্রি হয়েছিল এক কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৪০১টি, সেখানে চলতি বছরের আগস্টে মোট গাড়ি বিক্রির সংখ্যা ৯৭ লাখ ৩২ হাজার ৪০টি।
টাটা মোটরস, হুন্দাই মোটরস, টয়োটা কির্লোস্কর, হোন্ডা কারস এবং মহীন্দ্রার মতো সব বড় বড় গাড়ি কোম্পানির একই অবস্থা। যত দিন যাচ্ছে নাভিশ্বাস ভারতের গাড়ি শিল্পের। আর্থিক বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ায় এ সমস্ত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কপালে দিন দিন ভাঁজ বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিটি গাড়ি নির্মাতা কোম্পানির স্টোরে বিক্রি না হওয়া গাড়ি জমে যাচ্ছে।
এদিকে গাড়ির বাজারে এ মন্দার জেরে আবারও চাকরি হারাতে চলেছেন হাজার হাজার কর্মী। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে অসংখ্য কর্মচারী ছাঁটাই করেছে গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সূত্র অনুযায়ী, টয়োটা এবং হুন্দাই মোটরসও কর্মী কাটছাঁটের পথে হাঁটতে পারে।
ভারতে ২০০২ সালের গাড়ি নীতি বহাল থাকবে ২০২৬ সাল পর্যন্ত। দূষণের বিরুদ্ধে প্রচার, বৈদ্যুতিক গাড়ির পক্ষে সুপারিশ, বিকল্প জ্বালানি ও প্রযুক্তি থেকে শুরু করে বদলেছে গাড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেক বিষয়ই। তাই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নীতি তৈরির পথে এগোচ্ছে ভারত সরকার। সম্প্রতি এসআইএএম’র অন্যতম নেতা অরুণ মলহোত্র ও ডিডিজি সুগত সেন নতুন নীতির কথা জানান। তাদের দাবি, দূষণ, বৈদ্যুতিক গাড়ি ইত্যাদি নিয়ে চর্চা চলছে। আগে হাইব্রিডে জোর দেওয়া হলেও, এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির কথা বলা হচ্ছে। কথা হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি নিয়েও। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাই নীতি তৈরি জরুরি। সেই উদ্দেশ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা শুরু করবে। এ জন্য উপদেষ্টা সংস্থা এটি কার্নি নিযুক্ত হয়েছে।

সর্বশেষ..