বিশ্ব বাণিজ্য

ভারতে চিনি উৎপাদন কমেছে ২৬ শতাংশ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিপণন মৌসুমে ভারতে চিনি উৎপাদন কমতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএমএ)। বাস্তবে হচ্ছেও তা-ই। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত উৎপাদিত হয়েছে এক কোটি আট লাখ টনের কিছু বেশি চিনি। এক বছর আগের তুলনায় এটি ২৬ দশমিক ১৫ শতাংশ কম। গত বছর একই সময়ে এক কোটি ৪৭ লাখ টনের বেশি চিনি উৎপাদিত হয়েছিল। খবর: আনন্দবাজার।

চিনি উৎপাদনে দেশের বৃহত্তম রাজ্য মহারাষ্ট্র। গত সাড়ে তিন মাসে সেখানেই উৎপাদিত হয়েছে অর্ধেক। উৎপাদনে ধাক্কা খেয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য কর্নাটকও। রাজ্যটিতে উৎপাদন কমেছে ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশে অবশ্য সামান্য বেড়েছে। উৎপাদন কমার অন্যতম বড় কারণ বহু চিনিকল বন্ধ থাকা। গত বছর যেখানে এ সময়ে ১৮৯টি চিনিকলে পুরোদমে উৎপাদন হয়েছে, সেখানে এ বছর চালু রয়েছে ১৩৯টি চিনিকল।

আইএসএমএ পূবার্ভাসে জানিয়েছিল, চলতি মৌসুমে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) উৎপাদন কমে দুই কোটি ৬০ লাখ টন হতে পারে। গত বছর হয়েছিল তিন কোটি ৩১ লাখ টন। পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, বন্যা ও খরায় দ্বিতীয় বৃহত্তম আখ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রে উৎপাদনে পতনের কারণে এবার মোট উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় কমবে। ওই রাজ্যে এবার কমপক্ষে ৪০ টন কম চিনি উৎপাদিত হবে। 

তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের ১০৩ চিনিকল চিনি মাড়াই শুরু করেছে। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশে মাড়াই শুরু করেছে ৪২ চিনিকল। চিনিকলগুলোর প্রত্যাশা ২০১৯-২০ মৌসুমে উত্তরপ্রদেশে ১১২ লাখ টন এবং মহারাষ্ট্রে ৯৭ লাখ টন চিনি উৎপাদিত হবে। এছাড়া কর্নাটক, গুজরাট ও তামিলনাড়ুতে যথাক্রমে ৪১ লাখ, ১১ লাখ ও ১০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 

আইএসএমএ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে দুই কোটি ৪০ লাখ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছিল। পরের মৌসুমে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় দুই কোটি ৮৩ লাখ টনে। এর পরের দুই মৌসুমে দেশটিতে চিনি উৎপাদনে মন্দাভাব বজায় ছিল। ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ মৌসুমে দেশটিতে যথাক্রমে দুই কোটি ৫১ লাখ টন ও দুই কোটি ৩২ লাখ ৬০ হাজার টন চিনি উৎপাদিত হয়েছিল। আখের বাম্পার ফলনের জের ধরে ২০১৭-১৮ মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে তিন কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে। ভারতের ইতিহাসে এটাই খাদ্যপণ্যটির সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..