প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ভারতে পরিবেশ দূষণে স্বাস্থ্য খরচ ৩ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন রুপি

শেয়ার বিজ ডেস্ক : পরিবেশ দূষণের কারণে প্রতি বছর স্বাস্থ্য খাতে ভারতের খরচ ৩ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন রুপি। এটি দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপির) ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে জিডিপির তিন শতাংশ খরচ হয় বায়ু দূষণজনিত স্বাস্থ্য খরচে। খবর ইকোনমিক টাইমস।

বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন ইউনিটের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক লিখিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তথ্যমতে, সরকার বায়ুদূষণ রোধে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য পরিবেশগত নীতি প্রণয়ন, পরিবেশ দূষণকারী বায়ুর গুণমান মূল্যায়নের জন্য পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং ক্লিনার উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রচারের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বায়ুর মানোন্নয়নের জন্য বায়বীয় জ্বালানির মতো বিকল্প জ্বালানির কথা ভাবছে ভারত। এছাড়া ১৫ বছরের পুরোনো ডিজেলচালিত গাড়ি নিষিদ্ধ ও মেট্রো ট্রেনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত।

এদিকে গ্রীনপিচ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনমতে, প্রতি বছর দেশটিতে বায়ুদূষণে কমপক্ষে ছয় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদনমতে, জিবাশ্ম জ্বালানি বিশেষ করে কয়লার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ভারত ও চীনে গড়ে প্রতি বছর এক দশমিক ছয় মিলিয়ন মানুষ মারা যায়।

২০১৫ সালে বায়ুদূষণে বিশ্বে ছয় দশমিক পাঁচ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে, যার মধ্যে তিন দশমিক চার শতাংশই ভারত ও চীনে।

উল্লেখ্য সম্প্রতি দিওয়ালি উৎসবের পর দিল্লিতে ভয়াবহ দূষণ দেখা দিয়েছিল। গত কয়েক বছরে এমন দূষণ দেখেনি ভারতের রাজধানীবাসী। দূষণের কারণে পুরো শহরে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ওই সময়ে এক হাজার ৮০০ প্রাইমারি স্কুল কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এক জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বায়ুদূষণ কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি । নির্মাণকাজ এবং যেসব কাজে বায়ুদূষিত হয় সেগুলো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শহরে পাঁচ দিন নির্মাণ এবং বিধ্বংসী কাজ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।