বিশ্ব সংবাদ

ভারতে বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় ২২ মামলা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতের নতুন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ সহিংসতার ঘটনায় ২২টি মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিন শতাধিক পুলিশ আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভকারী কৃষদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন কৃষক নেতারা। তাদের দাবি, আন্দোলনকে নস্যাৎ করতেই শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর তাণ্ডব চালানো হয়েছে। বিক্ষোভ অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন কৃষক নেতারা। খবর : বিবিসি।

গত মঙ্গলবার প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে আগে থেকেই ট্রাক্টর মিছিল করার কথা ছিল কৃষকদের। সে অনুযায়ী মিছিল নিয়ে কৃষকরা এদিন দিল্লি অভিমুখে রওনা দিলে তাদের ঠেকাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পুলিশ। দফায় দফায় সংঘর্ষ, টিয়ারগ্যাস আর মোড়ে মোড়ে বসানো কাঁটাতারের ব্যারিকেড ভেঙে দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লায় পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা।

ভেতরে প্রবেশের পর দুর্গের চূড়ায় উড়িয়ে দেয়া হয় কৃষক আন্দোলনের পতাকা। এদিন এক আন্দোলনকারী কৃষকের মৃত্যুও হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশের দাবি, আইটিও মোড়ের কাছে একটি দ্রুতগামী ট্রাক্টর উল্টে গেলে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়।

পুলিশ বলছে, গতকাল আটটি বাস ও ১৭টি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় বেশকিছু কৃষক নেতাকেও আসামি করা হয়েছে। এই সহিংসতার ঘটনায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলেও সূত্র জানায়।

এক বিবৃতিতে সংযুক্ত কিষান মোর্চা দাবি করেছে, সহিংসতার পেছনে রয়েছে সমাজবিরোধীরা।

কৃষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কলুষিত করতেই এ ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নেতারা। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দেয়া বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘যে অনাকাক্সিক্ষত ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা ঘটেছে তার জন্য নিন্দা জানাচ্ছি ও অনুশোচনা প্রকাশ করছি। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত করেছে তাদের থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করছি।’ তবে কৃষক সংঘগুলো জানিয়েছে কোনোভাবেই তাদের আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করা যাবে না। তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

পুলিশের এক বিবৃতিতে দাবি করো হয়েছে, সমাবেশের জন্য যেসব শর্ত দেয়া হয়েছিল তা কৃষকরা লঙ্ঘন করে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেয়ায় পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে কৃষক সংঘের নেতা কাওয়ালপ্রিত সিং পান্নু পাল্টা অভিযোগ করেছেন, পুলিশই সহিংসতা উসকে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হামলা হলে সরকারের জন্য সমস্যা নিশ্চিতভাবে বাড়বে। এখানেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আমাদের আন্দোলন ও বার্তা আরও জোরালোই হবে।’

উল্লেখ্য, ভারতের নতুন প্রবর্তিত তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লি সীমান্তে গত দুই মাস ধরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে কৃষকরা। দিল্লির প্রবল ঠাণ্ডার মাঝে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া কৃষকদের সঙ্গে ভারত সরকারের ১১ বার বৈঠক হলেও সেখানে আইন প্রত্যাহার নয়, স্থগিত রাখার প্রস্তাবই দেয়া হয়েছে। তবে তা মেনে নিতে অস্বীকার করে আসা কৃষকরা প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাক্টর র‌্যালি কর্মসূচি ঘোষণা করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..