Print Date & Time : 23 June 2021 Wednesday 5:35 pm

ভারতে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে মহামারি

প্রকাশ: April 17, 2021 সময়- 11:06 pm

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিড-১৯ মহামারি দারুণ বিপাকে ফেলেছে ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে। মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানার পর মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি বড় অংশই দারিদ্র্যের কবলে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য বলা হয়। খবর: নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির প্রথম ধাক্কায় গত বছর পাঁচ কোটি ৪০ লাখ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে নিচে নেমে গেছে, যার অর্ধেকই ভারতীয় এবং এ সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ২০ লাখ। দারিদ্র্য  বিমোচনে গত কয়েক দশক ধরে একটি দেশ যে অগ্রগতি অর্জন করেছিল মহামারির কারণে তা যেন হারাতে বসেছে। ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্ত শ্রেণিকেই এর দীর্ঘমেয়াদি ধাক্কা সামলাতে হবে।

ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টের অধ্যাপক ও উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জ্যোতি ঘোষ বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো পথেই এটা খুবই খারাপ খবর। আমাদের প্রবৃদ্ধির গতিপথকে পেছনে টেনে ধরেছে এটা এবং আরও বেশি বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।

ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্য মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ সামান্যই বিকল্প রেখেছে। শুক্রবার ভারতে নতুন করে কভিডে সংক্রমিত হয়েছে রেকর্ড দুই লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ। অনেক রাজ্যেই লকডাউন ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কাজের অভাবে অভিবাসী শ্রমিকরা গত বছরের মতোই বাসে-ট্রেনে চেপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন। সে দেশে টিকাদান কার্যক্রমও ধীরে চলছে, যদিও সরকার গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গত বছর কঠোর লকডাউনে ১০ কোটির বেশি ভারতীয়কে কর্মহীন করে দিয়েছিল। অনেক অর্থনীতিবিদই বলেছেন, গত বছরের লকডাউন মহামারির পরিস্থিতিকে আরও বাজে অবস্থায় নিয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নরেন্দ্র মোদি সরকার যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য অনেক দেশের মতো সরকারি ব্যয় বাড়াতেও খুব আগ্রহী না। অথচ বাজেটে অবকাঠামো ও অন্যান্য খাতে ব্যয় বাড়ানো হলে তা ঋণ কমাতেও ভূমিকা রাখবে। মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের ভূমিকার পক্ষে সাফাই গেয়ে নয়াদিল্লি বলছে, টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি হচ্ছে এবং এর ফলে অর্থনীতিতেও গতি ফিরে আসছে। অর্থনীতিবিদরাও অবশ্য আসন্ন বছরে ভারতের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন, যদিও সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় টিকাদানের হার কমেছে। এখন পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশের কম মানুষ টিকা পেয়েছে, যা অর্থনীতির পূর্বাভাসকে ম্লান করে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত, পিউ রিসার্ট সেন্টারের সংজ্ঞায় যে বাড়িতে দিনে ১০ থেকে ৫০ ডলারের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকে তারা মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত। এ পরিমাণ আয় একটি ভারতীয় পরিবারকে ভালো এলাকায় অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস, একটি গাড়ি বা স্কুটার ব্যবহার করা এবং সন্তানদের বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ানোর সক্ষমতা দেয়।

বর্তমানে প্রায় ছয় কোটি ৬০ লাখ ভারতীয় এ সংজ্ঞায় পড়েন, গত বছর মহামারি শুরুর আগে এ সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৯০ লাখ। এ ক্রমবর্ধমান স্বচ্ছল ভারতীয় পরিবারগুলোর আকর্ষণেই ওয়ালমার্ট, আমাজন, ফেসবুক, নিসান ও অন্যান্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ভারতে বিনিয়োগ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বর্তমান সরকারের সম্ভবত চলমান মহামারিতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। বাসাবাড়ির আয় এবং সার্বিক ভোগের পরিমাণ দুর্বল হয়ে পড়েছে, যদিও চাহিদা বাড়ায় সম্প্রতি কিছু পণ্যের বিক্রি বেড়েছে। তবে মহামারির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছোট ব্যবসায়ীদের অংশই বেশি।