প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ভারতে শেষ হলো নোট জমা নেওয়ার সময়: জমা পড়েছে ১৩ লাখ কোটি রুপি

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতে বাতিল হওয়া ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল শুক্রবার। দেশজুড়ে পুরোনো নোট জমা দেওয়ার জন্য সকাল থেকেই ব্যাংকে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। তবে বিদেশে চাকরি করেন এমন ভারতীয় নাগরিকসহ অল্প কয়েকটি শ্রেণির মানুষ  আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বিভিন্ন শাখায় সীমিতসংখ্যক বাতিল নোট জমা দিতে পারবেন, কিন্তু তা হবে একটি জটিল প্রক্রিয়া। খবর বিবিসি, পিটিআই।

৮ নভেম্বর নোট বাতিলের ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) হিসাব অনুযায়ী, জমা পড়েছে প্রায় ১৩ লাখ কোটি রুপি, যা জমা হয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংস্থার প্রায় ৬০ লাখ ব্যাংক হিসাবে। প্রধানমন্ত্রীর নোট বাতিলের ঘোষণার ৫০ দিন পর জমার এ তথ্য দেখে বিব্রত দেশটির আয়কর অধিদফতর।

বাতিল হওয়া দুটি নোটে দেশটির মোট মুদ্রার ৮৬ শতাংশ ছিল। এ বাতিল রুপি ব্যাংক ও এটিএম বুথ থেকে বদলানোর জন্য ভারতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর, কৃষকসহ সাধারণ জনগণকে এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাংক ও এটিএম বুথের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। গ্রামীণ অর্থনীতিসহ দেশটির সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থায় বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এদিকে, নতুন এক সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ মার্চের পর একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০টি বাতিল নোট রাখতে পারবেন। এর বেশি নোট কোনো ব্যক্তির কাছে পাওয়া গেলে চার বছর পর্যন্ত জেল অথবা আর্থিক জরিমানা হওয়ার কথা বলা হয়েছে সরকারি এ অধ্যাদেশে। যত রুপির বাতিল নোট উদ্ধার হবে, তার পাঁচ গুণ অর্থ জরিমানা হিসাবে নেওয়া হতে পারে। দেশটির সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা সংস্থা যদি তাদের আয়ের সঠিক উৎস দেখাতে না পারে, তাহলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। ব্যাংকে জমা করে দেওয়া মানেই কালো টাকা সাদা হয়ে যাবে না।

সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সঠিক ডিপোজিটরকে কোনো রকম হেনস্তা করা হবে না। কিন্তু কোনো ফোরাম যদি তাদের কালো সম্পত্তি সাদা করার প্রচেষ্টা করে, তাহলে ব্যবস্থা নিতে কোনো রকম দ্বিধা করবে না  সরকার। নোট বাতিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে কালো রুপি ঘোষণার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা এখনও ঘোষণা করেননি বা কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের কোনো রকমভাবে রেহাই দেওয়া হবে না।

ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, অনেকেই ভাবছেন ব্যাংকের সাহায্যে তাদের কালো অর্থ সাদা করে নিতে পারবেন। এমনটা কিন্তু নয়। যারা দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ বা তার বেশি রুপি ব্যাংকে জমা করেছেন, তাদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা শুরু হয়েছে। ব্যাংক হিসাব নম্বর, অতীতে কত রুপি জমা পড়েছে ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো রকম অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ  নেওয়া হবে। যে সব ব্যক্তির একাধিক ব্যাংক হিসাব রয়েছে খোঁজ নেওয়া হবে তাদের সম্পর্কের। অন্য ব্যক্তির হিসাবে রুপি জমা দিয়ে কর ফাঁকির প্রচেষ্টার মতো বিষয়ও আয়কর দফতরের নজরে পড়েছে। আয়কর দফতর জানিয়েছে, ৬০ লাখের বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি এবং প্রতিষ্ঠান ৭ লাখ কোটি রুপি জমা করেছে। এ সংখ্যা চমকে দেওয়ার মতো। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে গত বুধবার দেশটির মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে একটি অধ্যাদেশ পাস হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর পুরোনো নোট কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিয়ে কেউ যাতে সমমূল্যের বৈধ নোট দাবি করতে না পারেন, তার জন্য আরবিআই আইনে সংশোধন এনে এ অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি সই করলেই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, ৩১ মার্চের পর কেউ বাতিল নোট নিয়ে রিজার্ভ ব্যাংকে গেলে তার বিনিময়ে বৈধ নোট মিলবে না। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার পরও ১০টির বেশি বাতিল নোট রাখা বা ব্যাংকে জমা দেওয়া যেতে পারে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রগুলো কী কী, তা অধ্যাদেশে স্পষ্ট করে এখনও জানানো হয়নি। ৩১ ডিসেম্বরের পরে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সে বিশেষ ক্ষেত্রগুলো সুনির্দিষ্ট করা হবে।দেশটির সরকার নোট বাতিলের এ সিদ্ধান্তকে সফল বললেও বিরোধী দল ও অর্থনীতিবিদদের এটাকে ব্যর্থ বলছেন। তারা বলছেন, দুর্নীতি ও কালোঅর্থের বিরুদ্ধে সরকারের এ পদক্ষেপ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।  দেশের অর্থনীতি যে দ্রুত গতিতে বাড়ছিল সরকারের এ সিদ্ধান্তে তা উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।