প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ভারসাম্য নেই বাজারে বিভিন্ন মানের নোট সরবরাহে

শেখ আবু তালেব: যে নোটের মান কম, সেটির সরবরাহ তত বেশি থাকার কথা। কিন্তু নীতিমালা না মানায় বিভিন্ন মানের মুদ্রার পরিমাণে ভারসাম্য নেই। বাজারে দেশীয় মুদ্রার ১০০ টাকার নোটের সংকট প্রকট হয়ে উঠছে। বাজারে এখন সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি সরবরাহ রয়েছে ৫০০ টাকা মানের নোট। ১০০ টাকা মানের নোটের চেয়ে দ্বিগুণ ৫০০ টাকা মানের নোট। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এর সত্যতাও মিলেছে।
চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কমায় ১০০ টাকার নোটের সংকটে পড়েছে বিভিন্ন খুচরা দোকানদার। এ ব্যাপারে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন শপিংমল ও খুচরা পর্যায়ের দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে ১০০ টাকার নোটের সংকট চলছে। ইলেকট্রনিক্স পণ্যের খুচরা ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমান জানান, এখন ১০০ টাকার পণ্য কিনলেও ৫০০ টাকার নোট দিচ্ছেন গ্রাহকরা। এত পরিমাণ ৫০০ টাকার নোটের খুচরা দিতে পারছি না।
তিনি আরও জানান, আগে খুচরা টাকার এত সংকট দেখা দিত না, নিজের কাছেই থাকত। কদাচিৎ বড় মানের নোট ভাঙাতে অন্য কোনো দোকানির সহযোগিতা নিতে হতো। কিন্তু এখন দুটির বেশি ১০ টাকার নোট এলেই খুচরার জন্য খুঁজতে হয়।
একই কথা জানালেন, ওষুধ ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, খুচরা টাকার চাহিদা বেশি। কিন্তু ১০০ টাকার নোট পাওয়া যাচ্ছে কম। ১০০ টাকার নোটের বেশিরভাগই পুরনো। ঈদের সময়েও ১০০ টাকার নোট পাওয়া যায়নি সেভাবে। ফলে ওষুধ বিক্রিতেও সমস্যা হচ্ছে। গ্রাহক অর্থ পরিশোধ না করতে পারায় কিছু সময় টাকা বাকি রাখতে হচ্ছে।
১০০ টাকার নোটের সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাইড-শেয়ারে পরিচালিত মোটরসাইকেল চালকরা যাত্রী ওঠানোর আগে নিশ্চিত হতে চাচ্ছেন খুচরা বা ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা আছে কি না।
বিষয়টি জানতে কয়েকটি ব্যাংকের মতিঝিলের শাখাগুলোতে গিয়েও পাওয়া গেছে এমন তথ্য। একটি বেসরকারি ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় চার লাখ টাকা তুলতে এসেছিলেন এক ব্যবসায়ী। তাকে এক হাজার টাকার নোটের বান্ডিল দেওয়া হয় ব্যাংকের কাউন্টার থেকে, কিন্তু তিনি অর্ধেক টাকা ১০০ টাকার নোটে নিতে চান। কিন্তু ব্যাংকের পক্ষ থেকে তখন তাকে পাঁচটি ১০০ টাকার নোটের বান্ডিল অর্থাৎ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি সাড়ে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয় এক হাজার টাকার নোটে।
চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশীয় মুদ্রা সরবরাহ করে। চাহিদার আলোকে দেশীয় মুদ্রা সরবরাহে উচ্চ মানের চেয়ে কম মানের নোট বেশি ছাড়া হয় বাজারে। ছোট থেকে সর্বোচ্চ বড় মানের নোট সরবরাহে একটি নীতিমালা মানা হয়। সেই নীতিমালা অনুযায়ী, কম মানের নোটের চেয়ে তার পরের ধাপের বেশি মানের নোটের সরবরাহ কম থাকবে। কিন্তু বাজারে বিভিন্ন মানের নোটের সরবরাহ তা বলছে না। মুদ্রা সরাবরাহ-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাপ্তাহিক ও মাসিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এর সত্যতা মিলেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ উপাত্ত বলছে, বাজারে ৫০০ টাকা মানের নোটের পরিমাণ হচ্ছে ১৩২ কোটির ওপরে। প্রায় সমানসংখ্যক পরিমাণ হচ্ছে ১০ টাকা মানের নোট। এর পরই প্রায় ৮২ কোটি হচ্ছে ১০০ ও এক হাজার টাকা মানের নোট। ৫০ টাকা মানের নোটের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ৩৩ কোটি, বিশ টাকা মানের ৬১ কোটি।
পরিমাণের দিক থেকে ১০০ ও এক হাজার টাকা মানের নোটের পরিমাণ প্রায় সমান। ১০০ টাকার নোটের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ৫০০ টাকার নোটের পরিমাণ। অথচ এটি উল্টো হওয়ার কথা।

 

সর্বশেষ..