সম্পাদকীয়

ভালো মানের কোম্পানি বাজারে আনতে হবে

শেয়ারবাজারের উত্থান-পতন স্বাভাবিক। এটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশেও হয়ে থাকে। কিন্তু অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের মৌলিক তফাত এই তারা সচেতন হয় এবং পতন রোধে ব্যবস্থা নেয়। আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলেও তা তেমন সুফল বয়ে আনে না। অর্থাৎ আমাদের নেওয়া ব্যবস্থা টেকসই নয়। এতে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারান। বাজার ছেড়ে যান অনেকে। এ দৃষ্টান্ত আমাদের দেশে কম নয়। শেয়ারবাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে চাঙা রাখতে উদ্যোগ থাকলে হয়তো এমন হতো না। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘আট বছরে ৯০ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি: আর্থিক অবস্থা শোচনীয় ৯ কোম্পানির’ শীর্ষক প্রতিবেদন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা। এতে বলা হয়েছে, বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় এসব কোম্পানির শেয়ার চাহিদা থাকলেও সময়ের বিবর্তনে এর কদর কমে গেছে। বর্তমানে তলানিতে নেমে গেছে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। পাশাপাশি লভ্যাংশ না দিতে পারায় কিছু কোম্পানির অবস্থান হয়েছে ‘জেড’ কাটেগরিতে।
যে কোম্পানিগুলোর অবস্থা খারাপ, সে খারাপ অবস্থা একদিনে হয়নি। কারও অগোচরেও হয়নি। তাই দেখার বিষয়, এগুলোকে চাঙা করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না। আমরা লক্ষ করেছি, বাজার পড়ে গেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অংশীজনরা নড়েচড়ে বসে। এরপর কাজে ধারাবাহিকতা থাকে না; থাকে না নজরদারি। ফলে পুুঁজিবাজার পরিস্থিতি সাময়িক মোকাবিলা করা গেলেও সমস্যা থেকেই যায়। এ অবস্থা থেকে ফিরে আসতে হবে।
বর্তমানে লক্ষাধিক লিমিটেড কোম্পানি আরজেএসসিতে নিবন্ধিত। এর মধ্যে কমপক্ষে কয়েক হাজার কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা আছে। কিন্তু আমাদের তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা নগণ্য। বাজার চাঙা করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি, মোবাইল ফোন অপারেটর এবং বড়
মুনাফা অর্জনকারী বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে সুস্পষ্ট তাগিদ ও নির্দেশনা দিতে হবে।
তবে বাজারকে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে তোলার চেষ্টা না করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে পরামর্শ থাকবে। দায়িত্বশীলদের উচিত বাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া এবং বাজারবিষয়ক সব তথ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া। ‘জেড’ ক্যাটেগরির কোম্পানির দৌরাত্ম্য ও দুর্বল কোম্পানি বাজার থেকে অর্থ তুলে নিয়ে পুঁজিবাজারকে যেন অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। বাজারের পতন ঠেকাতে অন্য দেশগুলো কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটিও প্রয়োগ করা যেতে পারে। বিনিয়োগকারীদেরও দায় কম নয়। তাদের উচিত গুঞ্জন-গুজবে প্রভাবিত না হয়ে বিচার-বুদ্ধি খাটিয়ে বিনিয়োগ করা।

সর্বশেষ..