দিনের খবর সারা বাংলা

ভিটেবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব কয়েকশ পরিবার

যমুনায় তীব্র ভাঙন

এনায়েত করিম বিজয়, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে যমুনার ভাঙন ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এরই মধ্যে এর ভাঙনে পড়েছে শতাধিক ভিটেবাড়ি ছাড়া মসজিদ, হাটবাজার, তাঁত ফ্যাক্টরি, স’মিল, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরুরিভাবে ফেলা জিওব্যাগও কাজে আসছে না। ফলে যমুনাতীরবর্তী অসহায় মানুষ রয়েছেন চরম আতঙ্কে।

জানা গেছে, যমুনার কোলঘেঁষা টাঙ্গাইল সদর উপজেলা, কালিহাতী, নাগরপুর ও ভূঞাপুর উপজেলা। এ চার উপজেলায় যমুনার ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। সদর উপজেলার চরপৌলী, মাকরকোল, কেশবমাইঝাইল, তিতুলিয়া, নয়াপাড়া, কুকুরিয়া, বারবাড়িয়া, দেওরগাছা, রশিদপুর, ইছাপাশা, খোশালিয়া, চানপাশা, নন্দপাশা, মসপুর; কালিহাতীর আলীপুর, ভৈরববাড়ী; ভূঞাপুরের ভালকুটিয়া ও নাগরপুরের পাইকশা মাইঝাইল, খাষঘুণি পাড়া, খাষতেবাড়িয়া ও চর সলিমাবাদ এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলী গ্রামে এক সপ্তাহে দেড় শতাধিক ভিটেবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া মসজিদ, হাটখোলা, তাঁত ফ্যাক্টরি ও স’মিল যমুনায় তলিয়ে গেছে। পাউবো হাটখোলাটি রক্ষার জন্য জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে ৩০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে। পরে জিওব্যাগগুলোও যমুনার তীব্র স্রোতে তলিয়ে গেছে।

চরপৌলী গ্রামের বাসিন্দা তাঁতশ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এক দিনেই আমার ভিটেবাড়িসহ দুটি ঘর নদীতে তলিয়ে গেছে। এক সপ্তাহের ভাঙনে আমার ২৪ শতাংশ জমির মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ নদীতে চলে গেছে। এখন আমার থাকার জায়গাটুকুও নেই। পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছি।’

চরপৌলী ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আল আমিন মোল্লাহ বলেন, ‘এক সপ্তাহের ভাঙনে শতাধিক ভিটেবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বছরই অসংখ্য ভিটেবাড়ি এভাবে চলে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু কিছু জায়গায় জিওব্যাগ ফেলছে। জিওব্যাগ না ফেলে শুকনো মৌসুমে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে ধীরে ধীরে এ ইউনিয়নের অস্তিত্ব থাকবে না।’

চরপৌলী ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম বাদশা বলেন, ‘এ বর্ষায় এক সপ্তাহে প্রায় ৫০টি ভিটেবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। থাকার জায়গা না পেয়ে মানুষ গাছতলায় আশ্রয় নিচ্ছেন। ভিটেবাড়ি হারিয়ে তারা দুর্ভোগে রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলছে, কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না। প্রায় ৩০ বছরের ভাঙনে একাধিক গ্রাম একেবারেই বিলীন হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুকে স্থানীয়ভাবে বাঁধ দেয়া প্রয়োজন। এভাবে ভাঙতে থাকলে এ ইউনিয়নটিও হারিয়ে যাবে।’

সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘কয়েক বছরের ভাঙনে একাধিক গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে এ ইউনিয়নে দুই শতাধিক ভিটেবাড়ি যমুনায় চলে গেছে। এছাড়া হাট, বাজার, মসজিদসহ বহু স্থাপনা নদীর বুকে চলে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেলছে, কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হচ্ছে না। স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে আরও একাধিক গ্রামের অস্তিত্ব থাকবে না।’

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রতিবছরই ভাঙনের শিকার হয়। ভাঙনরোধে তিন বছর আগে একটি স্থায়ী বাঁধের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হয়নি। জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’ 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..