করপোরেট টক

ভিনদেশি খাবারের খাঁটি স্বাদ চট্টগ্রামে

স্বল্পসময়ে ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নাওয়াব’স ডাইন। চট্টগ্রামের এ রেস্তোরাঁটির নানা দিক তুলে ধরেছেন মোহাম্মদ আলী

বিয়ে, ওয়ালিমা, গেট টুগেদার কিংবা কোনো পুনর্মিলনী? সেরা দামের সঙ্গে থাই, ইন্ডিয়ান আর চাইনিজ ফ্লেবারের বিশ্বস্ত খাবারের জন্য নাওয়াব’স ডাইনের মেন্যুটি বেছে নিতে পারেন। মাস শেষে পকেটের ওপর ‘চাপ’ পড়লে ‘নাওয়াব’স ডাইন’-এ রেগুলার ১৩০ টাকার ‘চিকেন চাপ’ পাবেন ৯৯ টাকায়। ওয়ালেটের চাপ কমাতে তাই খেতে পারেন এখানের এ চিকেন চাপ। তবে এর জন্য আপনাকে ফেসবুকে নাওয়াব’স ডাইন এ ‘চেক ইন’ দিতে হবে।

চট্টগ্রামে দক্ষিণ এশীয়সহ ভিনদেশি খাবারের খাঁটি স্বাদ উপহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ‘নাওয়াব’স ডাইন’ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বরে যাত্রা করে। এখন রেস্তোরাঁটি পুরো চট্টগ্রাম ও এর আশেপাশের এলাকার ভোজনপ্রিয়দের জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধিক্য ও ব্যস্ততম এলাকা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের চকবাজারের অলি খাঁ মসজিদের পাশে এক হাজার ১০০ বর্গ ফুটজুড়ে এ রেস্তোরাঁর অবস্থান। নাওয়াব অলী খাঁয়ের প্রতি সম্মানপূর্বক রেস্তোরাঁটির নামকরণ করা হয়েছে নাওয়াব’স ডাইন।

রেস্তোরাঁ একটি বিকাশমান ব্যবসা। চট্টগ্রাম শহরে দুপুর ও রাতের খাবারের অন্যতম ভরসাস্থল ‘রেস্তোরাঁ’। তবে নিন্ম মানের খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, রাসায়নিকের ব্যবহার, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশন, খাদ্য তৈরিতে ভেজাল ও পোড়া তেল ব্যবহারসহ নানা কারণে রেস্তোরাঁগুলো প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হয়ে থাকে। এসব সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে শুধু চোখ ধাঁধানো ইন্টেরিয়র ডিজাইনই নয়, ভালো মানের খাবার পরিবেশনের জন্য ‘নাওয়াব’স ডাইন’ রেস্তোরাঁটি নির্মাণ করেন তরুণ উদ্যোক্তা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ ৩৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মুবিন।

থাই, ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ এ তিন ধরনের ফ্লেবারের খাবার রয়েছে এখানে। তবে অথেনটিক ফুড হিসেবে ‘চিকেন হায়দরাবাদি’, ‘মাটন কাচ্চি’ ও ‘বিফ আখনি’-র জন্য রেস্তোরাঁটি গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয়। দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য ব্যাংকসহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে খাবার সরবরাহ করে নাওয়াব’স ডাইন। আর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেওয়া হয় ক্যাটারিং সার্ভিস। সপ্তাহের প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি। একই সময়ে রেস্তোরাঁটিতে প্রায় ১০০ জনের বসে খাবার খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহকসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন ১২ সদস্য। প্রতি দিন গড়ে প্রায় ৩০০ খাদ্য রসিক রেস্তোরাঁটি থেকে সেবা নেন। ভালোবাসা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারিসহ বিভিন্ন বিশেষ দিনে রেস্তোরাঁটি থেকে দেওয়া হয় বিশেষ ছাড়। এছাড়া বিশেষ দিনগুলোয় বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে এলে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়। রেস্তোরাঁটিতে রয়েছে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা ও দুটি বার্থডে জোন।

সামনে আসছে নতুন খাবার

গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নাওয়াব’স ডাইনে সামনে আসছে নতুন খাবার। আগামীতে গ্রাহকেরা এখানে বসে উপভোগ করতে পারবেন পুরান ঢাকার হালিম ও ইন্ডিয়ান কাবাব। পাশাপাশি রমজানে থাকবে ইফতার, ইফতার পার্টির সুবিধা ও করপোরেট হাউসগুলোর জন্য ইফতার সরবরাহের সুবিধা।

‘নাওয়াব’স ডাইন’ রেস্তোরাঁর উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুবিন বলেন, বর্তমান সমাজে খাদ্যে ভেজাল প্রকট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভেজালটা রেস্তোরাঁতেই বেশি হয়। ফুড কালার থেকে শুরু করে নানা নিষিদ্ধ বস্তু ও নিম্নমানের পণ্য দিয়ে খাবার তৈরি করা হচ্ছে। অথচ বর্তমানে রেস্তোরাঁ বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম। তরুণ প্রজন্মসহ নানা বয়সি মানুষ, যারা খেতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ভালো মানের খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়েই ‘নাওয়াব’স ডাইন’ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা সব সময় ভালো খাবারটি সরবরাহ করে থাকি। রুচি ও স্বাস্থ্যকর খাবারের বিষয়টি মাথায় রাখি। নাওয়াব’স ডাইন নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মানুষের জন্য নয়, এটি সব পেশা ও শ্রেণির মানুষের জন্য। খাবারের দামও সাধ্যের মধ্যে রয়েছে।

শিগগির ‘নাওয়াব’স ডাইন’ তার পরিষেবা ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করবে। সেরা খাবার ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আপনার কাছে আসবে।

প্যাকেজ মিল

নাওয়াব’স ডাইনের প্যাকেজ মিলের মধ্যে রয়েছে মিক্সড সালাদ, ইন্ডিয়ান ভেজিটেবল, বারবি কিউ চিকেনসহ হায়দরাবাদি রাইচ। রয়েছে সালাদ, চাইনিজ ভেজিটেবল ও ফ্রাইড চিকেনসহ ফ্রাইড রাইচ। আরও রয়েছে মিক্সড সালাদ, ইন্ডিয়ান ভেজিটেবল, চিকেন মাসালাসহ ফ্রাইড রাইচ। পাওয়া যাবে সালাদ, ডিম, বিফ আচারিসহ স্পেশাল বিরিয়ানি, সালাদ, ফ্রাইড রাইচ, ভেজিটেবলসহ বারবি কিউ চিকেন স্টিক। সটেড ভেজিটেবল, বারবি কিউ চিকেন, প্রণ মাসালাসহ মেক্সিকান ফ্রাইড রাইচ ও স্পেশাল আচারি, ইন্ডিয়ান ভেজিটেবল, প্রণ মাসালা, রোস্ট চিকেনসহ হায়দরাবাদি বিরিয়ানি পাওয়া যায় এখানে।

স্পেশাল প্যাকেজ

নাওয়াব’স ডাইনে রয়েছে রাইতা সালাদ, মাটন, ডিম, নাওয়াব’স রাইচ, চিকেন রোস্টের নাওয়াব’স প্ল্যাটার প্যাকেজ।

কারি আইটেম

নাওয়াব’স ডাইনের কারি আইটেমের মধ্যে রয়েছে প্রণ মাসালা, চিকেন মাসাল, বিফ মাসালা, ইন্ডিয়ান মাসালা ও চাইনিজ ভেজিটেবল।

কফি

কফির মধ্যে রয়েছে হট কফি, ব্ল্যাক কফি ও কোল্ড কফি।

স্ন্যাকস

নাওয়াব’স ডাইনে প্রায় ২৩ আইটেমের স্ন্যাকস রয়েছে। এর মধ্যে চিকেন চাপ, তান্দরি চিকেন, রেড সস পাস্তা, স্পাগেতি উইদ গারলিক চিকেন, ফ্রেন্স ফ্রাই, গোল্ডেন ফ্রাইড প্রণস, হট স্পাইসি চিকেন, ব্রুস্ট চিকেন, চিকেন মিট বল, ফ্রাইড চিকেন, বার্গার চিকেন, বারবি কিউ চিকেন বার্গার, চিকেন স্যান্ডউইস, থাই স্যুপ, কর্ন স্যুপ, চিকেন শর্মা রেফ, স্পাইসি সটেড মাশরুম, তাই ক্লিয়ার স্যুপ, স্পেশাল পরোটা ও ওভেন ব্যাকড নান উল্লেখযোগ্য।

বিরিয়ানি

নাওয়াব’স ডাইনে পাওয়া যাবে নাওয়াব’স হোয়াইট বিরিয়ানি (চিকেন), নাওয়াব’স হায়দরাবাদি বিরিয়ানি (চিকেন), নাওয়াব’স হায়দরাবাদি বিরিয়ানি (মাটন), নাওয়াব’স চিকেন খিচুড়ি, নাওয়াব’স বিফ খিচুড়ি, নাওয়াব’স মাটন খিচুড়ি ও মোরগ পোলাও।

সালাদ আইটেমএতে রয়েছে চিকেন ক্যাসো নাট সালাদ ও হানি চিকেন সালাদ।

ডেজার্ট

এখানের ফিন্নি, বোরহানি ও জর্দ্দার বিশেষ কদর রয়েছে ভোক্তার কাছে। রয়েছে আধা লিটার থেকে দুই লিটার পর্যন্ত মিনারেল ওয়াটার ও কোল্ড ড্রিংকস।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সাজিদ রোহান লাঞ্চ বা ডিনার সারার জন্য নাওয়াব’স ডাইনে নিয়মিত আসেন। গত শনিবার দুপুরে নাওয়াব’স ডাইন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে চান্দগাঁওয়ের অধিবাসী সাজিদ বলেন, এখানে আমি নিয়মিত আসি। বিশেষ করে কাচ্ছি খাওয়ার জন্যই মূলত এখানে আসি। এখানের কাচ্ছি খুবই উপভোগ করি। তাদের সেবা খুবই ভালো। অন্যান্য রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত তেলের জন্য খাবার খেতে পারি না। এখানে ঝুঁকিমুক্ত, তেলের ব্যবহার কম, ভালো খেতে পারি। সামগ্রিকভাবে নাওয়াব’স ডাইনের সেবা খুবই ভালো।

সামাজিক কাজের পরিকল্পনা

ব্যবসায়ের পাশাপাশি আগামীতে ‘নাওয়াব’স ডাইন’-এর লাভের অংশ থেকে সামাজিক কার্যাবলি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে এর উদ্যোক্তা মোহাম্মদ মুবিনের। রেস্তোরাঁ থেকে প্রাপ্ত আয়ের অংশ দিয়ে লেখাপড়া করতে চায় এমন অনাথ ও পথশিশুদের জন্য ব্যয় করা হবে। নাওয়াব’স ডাইনের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বর থেকে পালন করা হবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আর এ দুটি কাজ করা হবে কোনো স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে। এছাড়া রেস্তোরাঁর ভেতরেই সেবাগ্রহীতার জন্য একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..