প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ভিয়েতনামের পোশাক ও বস্ত্র খাতে রফতানি বেড়েছে ১১.৩ শতাংশ

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভিয়েতনাম থেকে পোশাক ও বস্ত্র খাতে রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১১ দশশিক তিন শতাংশ। ওই সময় দেশটি মোট ১৪ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলারের এসব পণ্য রফতানি করেছে। এ সময় সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানে। খবর সিনহুয়া।

ভিয়েতনামের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রেই পোশাক রফতানি হয়েছে ১১ দশমিক আট বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি নয় দশমিক এক শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে ফাইবার ও সুতা বিক্রিও ২৭ দশমিক চার শতাংশ বেড়ে এক দশমিক সাত বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

চলতি বছর ভিয়েতনামের পোশাক ও বস্ত্র রফতানি আয় ৩১ দশমিক তিন বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রফতানিকারকরা।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছর ভিয়েতনামের পোশাক ও বস্ত্র রফতানি হয়েছিল ২৩ দশমিক আট বিলিয়ন ডলার। তবে আমদানিকারকদের চাহিদা কমে যাওয়ায় ওই সময়ে এসব পণ্য রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল চার দশমিক পাঁচ শতাংশ।

সব মিলিয়ে চলতি বছর ১৮৮ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভিয়েতনাম। আগের বছরের তুলনায় এটি ছয় দশমিক নয় শতাংশ বেশি।

বেশকিছু মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ায় চলতি বছরে ভিয়েতনামের আমদানি ও রফতানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। মন্ত্রণায় বলছে, অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ এশিয়ান ন্যাশনভুক্ত (আশিয়ান) দেশগুলো ভিয়েতনামের রফতানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

‘জাতীয় বাণিজ্য উন্নয়ন কর্মসূচি ২০১৭’ এর আওতায় ১৯৯টি বাণিজ্য উন্নয়ন প্রকল্পে ভিয়েতনাম চার দশমিক এক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

গত বছর ভিয়েতনামের দুই দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে, যা মোট আমদানি-রফতানির এক দশমিক ৫২ শতাংশ। ওই সময় দেশটি থেকে এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল সন্তোষজনক। যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক দুই শতাংশ। এরপরই ইউরোপে ১১ দশমিক তিন শতাংশ ও এশিয়ায় ছয় দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

পৃথক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চামড়া ও জুতা রফতানি আয় বাড়াতেও মনোযোগী হচ্ছে ভিয়েতনাম। এ লক্ষ্যে ভিশন ২০৩৫ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে দেশটি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে এ শিল্পের পণ্যকে ভিয়েতনামের প্রধান রফতানি পণ্যের তালিকায় নিয়ে আসতে চাইছে সরকার। পরিকল্পনায় এ খাতে বার্ষিক উৎপাদন ২০২০ সালের মধ্যে বাড়বে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালে উৎপাদনে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে আট থেকে নয় শতাংশ এবং ২০৩০ থেকে ২০৩৫ সালে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে চার-পাঁচ শতাংশ।

এ ছাড়া ২০২০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে রফতানি আয় ২৪ থেকে ২৬ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৫ থেকে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ও ২০৩৫ সালের মধ্যে বার্ষিক রফতানি আয়ের লক্ষ্য ৫০ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে জুতা উৎপাদন ২০২০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ, ২০২৫ সালের মধ্যে ৪৭ শতাংশ ও ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫৫ শতাংশে উন্নীত করারও লক্ষ্য নিয়েছে ভিয়েতনাম।

গত বছর চামড়া ও জুতা রফতানি করে ১৬ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার আয় করেছে ভিয়েতনাম, যা দেশটির মোট রফতানি আয়ের দশ শতাংশ। চলতি বছরে এ আয় বেড়ে ১৭ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।