Print Date & Time : 25 October 2021 Monday 10:37 pm

ভুয়া দুই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: June 21, 2021 সময়- 12:21 am

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্তিত্বহীন ও ভুয়া দুটি প্রতিষ্ঠান হেনান আনহুই এগ্রো এলসি ও এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি। দুটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মোতালেব। তিনি দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানির আড়ালে বিদেশে পাচার করেছেন এক হাজার ১৩ কোটি টাকা। অর্থপাচারের অভিযোগে আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে করা হয়েছে ১৬টি মামলা। অবশেষে অর্থপাচারের হোতা আব্দুল মোতালেবকে গ্রেপ্তার করেছে কাস্টমস, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

গতকাল রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাস্টমস, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরেরর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সংস্থার মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফ।

মহাপরিচালক বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল চট্টগ্রাম বন্দরে ১২টি কন্টেইনারে পোলট্রি ফিড আর ক্যাপিটাল মেশিনারি ঘোষণায় অবৈধ মদ, সিগারেট ও টেলিভিশন খালাস নেয়া হবে। পরে কন্টেইনারগুলো কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আটক করেন। ২০১৭ সালের ৫ ও ৬ মার্চ বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে কন্টেইনারগুলো ইনভেন্ট্রি করা হয়। কন্টেইনারে মেশিনারিজের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপিয়ার ও অবৈধ মদ পাওয়া যায়। এই

ঘটনায় হেনান আনহুই এগ্রো এলসি ও এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামের দুটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৪০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে পল্টন থানায় একই বছরের ২৭ নভেম্বর মামলা করে কাস্টমস গোয়েন্দা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এর আগে ৭৮টি কন্টেইনারে মেশিনারিজ ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ সিগারেট, এলইডি টিভি, ফটোকপিয়ার মেশিন ও মদ খালাস নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে ৮৭৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে পল্টন থানায় মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক মোট ১৫টি মামলা করা হয়। দুটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মোতালেব হওয়ায় তাকে এক নম্বর আসামি করে পল্টন থানায় ১৬টি মামলা করা হয়। মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

মহাপরিচালক আরও জানিয়েছেন, আব্দুল মোতালেব মোট এক হাজার ১৩ কোটি টাকা পাচার করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা করা হয়েছে। অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে তিনি মেশিনারিজ ঘোষণায় অবৈধ মদ, সিগারেট, টেলিভিশন ও ফটোকপিয়ার মেশিন আমদানি করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আব্দুল মোতালেবকে গ্রেপ্তার করতে পারলে অর্থপাচারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে কাস্টমস গোয়েন্দা নিশ্চিত ছিল। অনেক চেষ্টার পর আজ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইভাবে অর্থপাচারের আরও ১৪টি মামলার বিষয়ে আব্দুল মোতালেবের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।

ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, এর আগে হেব্রো ব্রাঞ্চো ও চায়না বিডিএল নামে অস্বিত্বহীন আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সুরুজ মিয়া ওরফে মো. বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কাস্টমস গোয়েন্দা। ৬ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই দুটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সুরুজ মিয়া মেশিনারিজ ঘোষণায় সিগারেট, মদ, এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপিয়ার আমদানি করেছেন, যার মাধ্যমে সুরুজ মিয়া বিদেশে ৫২৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুরুজ মিয়াকে প্রধান আসামি করে মানি লন্ডারিং আইনে ১৪টি মামলা করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।