দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ভুয়া রেজিস্টার ও নকল চালানে ১২ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আটলান্টা স্টিল অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের প্রায় ১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ভ্যাট (মূসক) ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)। প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া রেজিস্টার ও ডুপ্লিকেট (নকল) চালান ব্যবহার করে মাত্র এক বছরে এ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল ভ্যাট পশ্চিম কমিশনার ড. মইনুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সাভারের আশুলিয়া বঙ্গবন্ধু রোড এলাকার আটলান্টা স্টিল অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাভার ভ্যাট বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ও উপকমিশনার মো. খায়রুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল ২৯ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি আকস্মিক পরিদর্শন করে। এটি মূলত বিভিন্ন স্টিল স্ট্রাকচার ও বিদ্যুৎ সরঞ্জাম তৈরি করে। পরিদর্শনের সময় কারখানা প্রাঙ্গণ থেকে মূসক রেজিস্টার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

এসব কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান হতে জব্দ করা আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ইস্যুকৃত মূসক চালান অনুযায়ী মাসিক দাখিলপত্র পেশ করা হয়নি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয়-ব্যয় হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত বিক্রি করেছে প্রায় ১২৬ কোটি ২১ লাখ টাকার পণ্য, যাতে প্রযোজ্য ভ্যাট প্রায় ১৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট জমা দিয়েছে মাত্র ছয় কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার ভ্যাট পরিশোধ না করে ফাঁকি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির হিসাব গোপনের মাধ্যমে এ ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

আরও দেখা যায়, পরিদর্শনের সময় ডুপ্লিকেট ফরম মূসক ৬.৩ নামের বেশ কয়েকটি বইও পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি একই সময় একই নম্বরের ডুপ্লিকেট মূসক ৬.৩ চালান ব্যবহার করে প্রায় পাঁচ কোটি দুই লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ করে। এর ওপর ১৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাট ৭৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

পণ্য সরবরাহ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি তা রেজিস্টার ও দাখিলপত্রে উল্লেখ করেনি। এ হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১২ কোটি ১৩ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। ভুয়া রেজিস্টার ব্যবহার করে এই ফাঁকি দেওয়া হয়েছে মর্মে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়। ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রতিষ্ঠানটি একই কায়দায় আরও ফাঁকি দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান ড. মইনুল খান।

তিনি বলেন, এনবিআরের নির্দেশে আমরা ব্যবসায়ীদের নতুন আইন পরিপালনে উদ্বুদ্ধ করছি। তবে কেউ ভ্যাট ফাঁকির সঙ্গে জড়িত হলে আইনে বর্ণিত যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। তদন্ত অনুসারে আটলান্টিক-নামীয় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ ➧

সর্বশেষ..