সম্পাদকীয়

ভূমি অফিসে দুর্নীতি রোধে কঠোর হোন

দুর্নীতির সূচকে যেসব দেশ প্রথম দিকে রয়েছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের নাম অন্যতম। কিছু কার্যালয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মতো বিষয়গুলো রীতিমতো অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। ফলে সাধারণ মানুষও বিষয়টি অনেকটা মেনে নিয়েছেন। তারা মনে করেন, বিষয়টি অন্যায় সত্ত্বেও এ পদ্ধতির সহযোগী হওয়া ছাড়া প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। দুর্নীতিগ্রস্তের তালিকায় অফিসগুলোর মধ্যে ভূমি অফিস অন্যতম। সম্প্রতি টিআইবির প্রতিবেদনেও ভূমি বিষয়টি উঠে এসেছে। অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।
গত মঙ্গলবারের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ভূমি অফিসে পদে পদে ঘুষ: টিআইবি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, দলিলের নকল তোলার জন্য সেবাগ্রহীতাদের এক হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। দলিল নিবন্ধনের জন্য প্রতিটি দলিলে দলিল লেখক সমিতিকে ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। জমির দাম, দলিল ও দলিলের নকলের ধরন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকা না থাকার ওপর এবং এলাকাভেদে নিয়মবহির্ভূত অর্থ লেনদেন হয়। ভূমি দলিল নিবন্ধন নিয়ে একটি গুণগত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে টিআইবি। এতে ভূমি অফিস যে অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে তা স্পষ্ট।
ভূমিসেবার সঙ্গে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষসহ সব শ্রেণির মানুষের ভাগ্য জড়িত। দেখা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে লাখ লাখ মামলা অমীমাংসিত রয়েছে। ফলে পারিবারিক বিরোধ থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটছে। অথচ ভূমি অফিসে সেবা সঠিকভাবে মিললে বিরোধ অনেক কমে আসত। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, রেজিস্ট্রার অফিসগুলোয় সেবা পেতে সেবাগ্রহীতাদের ৫০০ থেকে শুরু করে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। ফলে জমিসংক্রান্ত কোনো কাজে যেতেও অনেকে অনীহা প্রকাশ করেন। অথচ রেজিস্ট্রি অফিসের সেবা নিয়মমাফিক ও ভোগান্তি ছাড়া দেওয়া গেলে তা আর্থসামাজিক ও পারিবারিক অনেক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখত।
টিআইবির মতে, ভূমির দলিল ও নিবন্ধন সেবা খাতে সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। ফলে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বড় দুর্নীতি বিরাজ করছে। এসব বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার বিকল্প নেই। দুর্নীতিতে যারাই জড়িত থাকুন না কেন, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাইজেশন জরুরি। এতে দুর্নীতির সুযোগ অনেকাংশে বন্ধ হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..