শেয়ার বিজ ডেস্ক : ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের মধ্যেই দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বা জাতীয় সংসদ তেলশিল্পের মূল কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আনার লক্ষ্যে একটি বিতর্কিত বিলের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে।
‘অর্গানিক ল অন হাইড্রোকার্বন’ বা হাইড্রোকার্বন-বিষয়ক মৌলিক আইনের আংশিক সংস্কারের বিষয়ে প্রথম আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। এই আইনি উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ, যিনি এমন একসময়ে এই প্রস্তাবটি সামনে আনলেন যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা তাদের তেল বাণিজ্যের শর্তাবলি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
প্রস্তাবিত এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রায়ত্ত তেলশিল্পে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা। খসড়া আইনে ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রের হাতে প্রাথমিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও যৌথ উদ্যোগে রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারত্বের পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিগুলোকেও প্রাথমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আইনি বৈধতা দেওয়া হবে।
এর মাধ্যমে অনুসন্ধান ও উত্তোলন থেকে শুরু করে পরিশোধন ও বিপণন—পুরো ভ্যালু চেইন বা মূল্য শৃঙ্খলেই আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে রাষ্ট্রের রয়্যালটি বা লভ্যাংশের হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
বর্তমানে উত্তোলিত হাইড্রোকার্বনের ওপর রাষ্ট্র ৩০ শতাংশ হিস্যা পায়, যা কমিয়ে বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং যৌথ উদ্যোগের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম-বিষয়ক স্থায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান অরল্যান্ডো কামাচো এই সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ২০০৬ সালের পুরোনো নীতিমালা বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, জাতীয় তেল উৎপাদন দ্রুত বৃদ্ধি করতে হলে এই আইনি সংস্কার অপরিহার্য। তবে বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, সরকার অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে এবং স্বচ্ছতা ছাড়াই এই আইন পাস করতে চাইছে।
বিরোধীদলীয় সদস্য এনরিকে ক্যাপ্রিলেস এবং লুইস এমিলিও রন্ডন অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছে সংস্কারের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় ক্যাপ্রিলেস সতর্ক করে বলেন, সরকার নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তির স্বরূপ এবং তেল খাতের প্রকৃত পরিস্থিতি জনগণের কাছ থেকে আড়াল করে আইনটি পাস করতে চাইছে।
এই আইনি প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে গভীর এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই কারাকাস ও ওয়াশিংটনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নাটকীয় মোড় নিয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গত বৃহস্পতিবার মাদুরোর পক্ষে একটি জবাবদিহিতামূলক প্রতিবেদন পেশ করার সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংস্কার প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল ব্যবস্থাপনা ও বিক্রির তদারকি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংস্কারটি মূলত ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সমীকরণ মেলানোর একটি অংশ। বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে দ্বিতীয় দফার বিতর্কের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post