প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ভোগান্তির আরেক নাম স্টুডেন্ট আইডি কার্ড!

তানিউল করিম জীম, বাকৃবি: বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একজন শিক্ষার্থীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড; যা শিক্ষার্থীর বর্তমান পরিচয় বহন করে। কিন্তু এ আইডি কার্ড পেতেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের। দিনের পর দিন ঘুরেও আইডি কার্ড না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থী। প্রায় দুই বছর ধরে এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলেও জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা বিভাগ থেকে আইডি কার্ড দেয়া হয়। এখানে এ আইডি কার্ড তৈরির জন্য মাস্টাররোল শ্রমিক (অস্থায়ী) হিসেবে কাজ করতেন আশরাফুল কালাম নামে একজন কর্মচারী। কিন্তু বর্তমানে তার অন্য জায়গায় চাকরি হওয়ায় তিনি ছাত্রবিষয়ক বিভাগ থেকে চলে যান। এতে আইডি কার্ড তৈরি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে প্রিন্টিং মেশিন নষ্ট হওয়ায় আইডি কার্ড তৈরি পুরো প্রক্রিয়াটি বন্ধ। এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য নেই কোনো স্থায়ী কর্মচারী।

পশুপালন অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রায়হান আবিদ বলেন, স্টুডেন্ট আইডি কার্ডটি একজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া শিক্ষার্থীর পরিচয় বহন করে। এর রয়েছে নানা ব্যবহার; যা একজন শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমানে বাসে হাফ পাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশ, পাসপোর্ট আবেদনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহƒত হয় স্টুডেন্ট আইডি। কভিড মহামারির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে পায়নি তাদের আইডি কার্ড। বর্তমান ক্যাম্পাস ও অফিসিয়াল কার্যক্রম চালু থাকা সত্ত্বেও দেয়া হচ্ছে না পরিচয়পত্র। তাছাড়া আমি বাসে বেশি যাতায়াত করায় ভাড়ার ব্যাপারটি নিয়ে প্রায়ই আইডি কার্ড দেখতে চায়। দেখাতে না পারলে ঠিকই পুরো ভাড়া দিতে হচ্ছে।

এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রশাসনের কাছে স্টুডেন্ট আইডি চাইতে গেলে প্রিন্টার অকার্যকর এবং কবে দেয়া হবেÑসে বিষয়ে তারা জানাতেও পাড়ছে না। ফলে পাসপোর্ট আবেদনসহ বিভিন্ন কাজে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড ব্যবহার করতে পাড়ছি না।’

এ বিষয়ে বাকৃবির সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আশরাফুল কালাম নামে যে কাজ করত তিনি আইডি কার্ড তৈরির বিষয়ে দক্ষ ছিলেন। কিন্তু তার স্থায়ী চাকরি হওয়ায় সে এখান থেকে চলে যায়। পরে তাকে সপ্তাহে দু-একদিন কাজ করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে প্রিন্টার মেশিন নষ্ট হয়েছে। এটি মেরামত অথবা কেনার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ খাতে বছরে খুবই কম বাজেট দেয়া হয়। কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে কথা বললেও কোনো ফলাফল আসেনি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মো. রাকিব উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রিন্টার মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা আশরাফুল কালামকে আমাদের বিভাগে বদলি করে ছাত্রবিষয়ক বিভাগে আনার ব্যবস্থা করব। উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’