দিনের খবর প্রথম পাতা

ভোগান্তি মাথায় নিয়ে ঢাকায় ফিরছেন মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চরম ভোগান্তি সহ্য করে কভিড-১৯ আশঙ্কা মাথায় নিয়ে ঈদ করতে গ্রামে যাওয়া মানুষ ঢাকায় ফিরে আসতে শুরু করেছেন। ঈদের ছুটি শেষ হতে না হতে রাজধানীর গাবতলী, আমিনবাজার ও শালিপুর এলাকায় ফিরতি মানুষের ঢল নেমেছে।

গতকাল সাভারের শালিপুর ও গাবতলী মাজার রোড এলাকা ঘুরে দেখা গেল ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা আবার রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন। কেউ গাড়িতে, আবার কেউ মোটরসাইকেল রিজার্ভ করে ঢাকায় আসছেন। যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রংপুর, কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ লোকই মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে আসছেন।

মাসুদ আলম নামের এক যাত্রী বলেন, গাজীপুরে একটি কোম্পানিতে চাকরি করি, চার দিনের ছুটিতে মা-বাবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়েছিলাম। ভোরে ১০ জনে মিলে গাবতলী পর্যন্ত একটি মাইক্রোবাস রিজার্ভ করে এসেছি। জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে নিয়ে গাবতলী নামানোর কথা থাকলেও নামিয়েছে শালিপুর এলাকায়, ওখান থেকে হেঁটে গাবতলী এলাম।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময়, কষ্ট ও বাড়তি টাকা খরচ হলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পেরেছি, এটাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

অন্যদিকে ঈদের দুদিন পরও রাজধানী থেকে বহু মানুষকে গ্রামের বাড়িতে যেতে দেখা গেছে।

দারুসসালাম থানার পিআই (পেট্রোল ইন্সপেক্টর) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের ডিউটি গাবতলী এলাকায় ২৪ ঘণ্টা আছে, তবে সকাল থেকে ঢাকায় ফিরতি মানুষের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। তবে আমরাও চেকপোস্ট বসিয়ে সতর্ক অবস্থায় আছি। মাস্কবিহীন কোনো মানুষকে আমরা ঢাকায় ঢুকতে দিচ্ছি না।’

কভিড-১৯ সংক্রমণ রুখতে দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সিটিকেন্দ্রিক গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঈদের আগে যে যার মতো করে নাড়ির টানে ঢাকা ছেড়ে বাড়ি গিয়েছিলেন। কেউ মোটরসাইকেলে করে, কেউ সিটি/জেলাকেন্দ্রিক গণপরিবহনে ভেঙে ভেঙে, কেউবা প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ভাড়া করে আবার কেউ মিনি পিকআপে করে ঢাকামুখী হতে শুরু করেছেন।

ছুটি শেষে নিজেদের রুটি-রুজি ও কাজের তাগিদে সবাই ফিরছেন ঢাকায়। ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী ফের ব্যস্ত হতে শুরু করছে।

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুরে সকাল থেকে ঢাকামুখী মানুষের স্বাভাবিক ভিড় দেখা গেছে। আন্তঃজেলা গণপরিবহনের চলাচল বন্ধ থাকার কারণে অনেকে মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন। অনেক মানুষকে দেখা গেছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে করে ফিরতে। এদিকে ফাঁকা ময়মনসিংহ সড়ক দিয়ে আসা ফিরতি মানুষদের টঙ্গী থেকে হেঁটে আব্দুল্লাহপুর আসতে দেখা গেছে। তারা আব্দুল্লাহপুর থেকে আবার অন্য যানবাহনে করে বাসায় ফিরছেন।

মোটরসাইকেলচালক মোহাম্মাদ আনাস বলেন, বাস চলে না তাতে কি! নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর গিয়েছিলাম। এখন রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা, চালাতেও ভালো লেগেছে। তাই মোটরসাইকেলে করে ঢাকায় ফিরলাম। আবার কাল (আজ) থেকে অফিস শুরু করব।

তবে আনাসের মতো অনেকে এবার ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেলে করে ঢাকার বাইরে গিয়েছিলেন। তারা মোটরসাইকেলে করেই আবার ঢাকামুখী হচ্ছেন।

সাইফুল ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈদ উপলক্ষে চার দিন ছুটি পেয়ে তিনি গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকায় গিয়েছিলেন। ঈদের ছুটি শেষে তিনি গতকাল সকালে ঢাকায় ফিরলেন।

তিনি বলেন, ভালুকা থেকে মিনি পিকআপ ও টেম্পো করে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এসেছি। সেখান থেকে একটি বাসে চড়ে টঙ্গী স্টেশন রোড পর্যন্ত, এরপর হেঁটে আব্দুল্লাপুর পর্যন্ত এসেছি। এখন একটু বিশ্রাম নিয়ে বাড্ডার বাসায় যাব। আগামীকাল (আজ) থেকে আবার প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করব।

তিনি আরও বলেন, করোনা ঠেকাতে আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ করেছে। কিন্তু মানুষজন ঠিকই বাড়ি গেছে। কষ্ট করেই গেছে। এখন আমাদের ঢাকায় ফিরতেও কষ্ট হচ্ছে। কাউকেই আটকাতে পারেনি। যদি গণপরিবহন খোলা থাকত তবে এত কষ্ট হতো না। আর বন্ধ রেখেও কোনো লাভ হয়নি।

একটি গার্মেন্টসের সুইং সেকশনে কাজ করনে মিতু খাতুন। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণখানে একটি গার্মেন্টসে কাজ করি। পরিবারের সবাই থাকে টাঙ্গাইল। তাই ঈদের ছুটিতে আমি একা ঢাকায় থেকে কী করব। তাই বাড়ি গিয়েছিলাম। কিন্তু আবার ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ঢাকায় এসে পড়েছি। কাল হয়তো অনেক ভিড় হবে। কিন্তু অনেক ভেঙে আসতে হয়েছে। খুব কষ্ট হয়েছে।’

এদিকে ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষদের চাপে রাজধানীর কিছু কিছু জায়গায় যানবাহনের জটলা সৃষ্টি হতে শুরু করেছে। তবে এ জটলা খুব বেশি সময় থাকছে না। আবারও পুরোনো রূপে ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..