মত-বিশ্লেষণ

ভোগ্যপণ্যের মূল্যের পাগলা ঘোড়া থামাবে কে?

এসএম নাজের হোসাইন: কভিডকালে রাজধানীসহ দেশব্যাপী নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। সীমিত আয়ের সাধারণ মানুষের এখন আতঙ্কের নাম নিত্য ভোগ্যপণ্যের বাজার। বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের ওপর অনেকটাই ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। বিশেষ করে বেশ কয়েক মাস ধরে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির পাগলা ঘোড়াকে থামানো যাচ্ছে না। দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যপণ্য স্থিতিশীল রাখতে তৎপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট নানা সংস্থা-দপ্তর। এই পাগলা ঘোড়ার লাগাম টানতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত সেসব কোনো কাজেই আসছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বাজার বিশ্লেষক সবাই নানা ফর্মুলার কথা বললেও অধিকাংশই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণেইর আভাস দিচ্ছে। তবে যেটাই বলা হোক না কেন, সবকিছুর পেছনে আমাদের নীতি-আদর্শহীন মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের কারসাজি নিয়ে কেউ তেমন একটা বলতে চান না, তাহলে হয়তো নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণœ হবে। যেখানে তারা এখন সরকারের নীতিনির্ধারক, গণমাধ্যম ও অর্থনীতিবিদের তাদের জালে আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছেÑসেখানে সাধারণ ভোক্তাদের বিষয়গুলো রসাতলে যাক বা পুরো দেশ তলিয়ে যাক, তাদের কিছু যায়-আসে না। দেশের মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা একবার পেঁয়াজ, একবার চাল, একবার সয়াবিন তেল, একবার আলুÑএভাবে পর্যায়ক্রমে নানা পণ্যেই ভোক্তাদের পকেট কাটছেন।

ব্যবসায়ীরা এখন মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য নয়, রাজনীতি, সমাজনীতি, গণমাধ্যম, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কাউকে নয়Ñঅর্থনীতিবিদদেরও লবিস্ট হিসেবে নিযুক্ত করতে সক্ষম হচ্ছেন, যারা বিভিন্ন মিডিয়ায় টকশো ও সভা-সেমিনারে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে তৎপর থাকছেন।

গত বছরও সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের বাজার অস্থির ছিল। এ বছরও একই কায়দায় পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখ দিয়ে পানি গড়ায়। পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পর এবং আমদানিকারক ও বড় ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো হওয়ার পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মোতাবেক দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩০ লাখ টন। আর দেশে উৎপাদিত হয় ২২-২৪ লাখ টন। বাদবাকি আমদানি করতে হয়। ভারতে গত বছর বন্যার অজুহাতে দেশে পেঁয়াজ সংকটে মানুষ নাকাল হয়েছিল। তখনই আমাদের অনেকের ধারণা ছিল, এ বছর পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। অভিজ্ঞতার কারণে ঘাটতি আছে বলেই সংকট সৃষ্টির আগে আমদানি করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এবারও যথারীতি সময়মতো পেঁয়াজ আমদানি হলো না। সংকটে সাধারণ ভোক্তা বিপর্যস্ত হলো আর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের পকেট ভরল। কিন্তু এবার বেলাশেষে পেঁয়াজ আমদানি করেও লাভ হলো না।

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার পেছনে বৈধ আমদানির ছাড়পত্র, এলসি খোলার কাগজপত্র ছাড়া আমদানিকারকের কমিশন এজেন্ট ও আড়তদার পরিচয়ে পেঁয়াজসহ ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা জনগণকে জিম্মি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে অনেকের। দেশের চাহিদার সিংহভাগ দেশীয় উৎপাদন দিয়ে মেটানো সম্ভব হলেও ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রিতে স্বাচ্ছন্দ্য পান, কারন পেপারলেস ব্যবসা হওয়ায় আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের সহজেই বোকা বানানো যায়। এ কারণে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ উধাও। ২০১৯ সালেও এ ব্যবসায়ীরা একই কায়দায় পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা চলমান হলে জেলা প্রশাসন পাইকারি অভিযান চালালে ব্যবসায়ীরা উল্টো বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করেন। প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেই ধর্মঘটসহ নানা হুমকি প্রদান করছে। অপকর্মের হোতাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির পরিবর্তে জামাই আদরের কারণে তারা বারবার এ ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে। বাজারে অভিযান পরিচালনা করলেই ব্যবসায়ীরা বিক্রি বন্ধ করে ধর্মঘট করে প্রশাসনের সঙ্গে দেনদরবারে চলে যান। আর প্রশাসন বড় বড় ব্যবসায়ীর চাপে এসব অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে কালক্ষেপণ করে থাকে। আর চোরাচালানকারীর কায়দায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া পণ্য বিক্রি ও অর্থ লেনদেনের কারণে মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সবকিছুই এখন অশান্ত। খাদ্যের অন্যতম জোগানদাতা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। খেটেখাওয়া মানুষের মোটা চাল এখন ৫০ টাকার কাছে এসে এর আভিজাত্য বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ শ্রমিকের কাছ থেকে জানা যায়, সংসারে তিন বেলায় চার কেজি চাল ও দুই কেজি আটা লাগে। আড়াইশ টাকা চলে যায় চাল কেনাতেইÑলবণ, তেল, ডাল ও পেঁয়াজ কেনা কঠিন হয়ে পড়ে; মাছ, মাংস আর ডিমের চিন্তা তো করাই যায় না। এ ছাড়া প্রতিদিন কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এসব কারণে একবেলা কম খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এদিকে সরকার খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বেঁধে দিয়েছে ৩০ টাকায়। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, দেশে আলুর ঘাটতি নেই। হিমাগারে আলু পরিপূর্ণ আছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছেও আলু পর্যাপ্ত মজুত আছে। তবে সরকারের যে প্রতিষ্ঠান আলুর দাম বেঁধে দিয়েছে, সেই কৃষি বিপণণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে কোনো তৎপরতা নেই। তারা জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেই ক্ষান্ত। সে কারণে সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম কার্যকর করা কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। অনেকের মতে, আলু ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের দেখে ও শিখে কৌশল আয়ত্ত করেছেনÑকীভাবে জনগণের পকেট কাটতে হয়। সরকারি নির্দেশ পালিত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

কয়েক মাস ধরে একবার পেঁয়াজ, একবার চাল, একবার সয়াবিন এবং সর্বশেষ আলুর মূল্য বৃদ্ধি করে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস তৈরি করছে। পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কারসাজি করার পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী মাজিস্ট্রেট দেশের বৃহত্তর পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করলে ব্যবসায়ীরা পরের দিন ধর্মঘট ডেকে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে জেলা প্রশাসন খাতুনগঞ্জে আর অভিযান পরিচালনা করেনি, যার খেসারত দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এখন তারা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের জীবনযাত্রায় প্রতিকূলতা তৈরি করছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা শোনা গেলেও সেগুলো কোনো কাজে আসছে না। আর সরকারের এই বিফলতার জন্য ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে বিশাল আকারের বৈষম্যকেই দায়ী বলে মনে করছে দেশের ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সক্ষমতা অনেক বেশি হয়ে আছে। সে কারণে তারা অতি সহজেই সরকারকে নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হচ্ছে। আর সে কারণে ভোক্তাদের স্বার্থগুলো বারবার উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর বলছে না সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে? রাজনৈতিক স্বার্থে উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে যখন সব পক্ষকে খুশি রাখতে হয়, তখন জনকল্যাণ হয়ে যায় গৌণ। তাই আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, এটা ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা যেভাবে চাইবে, সেভাবেই বাজার পরিচালিত হবে। নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে একটি মজার ব্যাপার সব সময় লক্ষ করা যায়। সাংবাদিক যখন খুচরা ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করবেনÑএই সবজির দাম বেশি কেন? তার তাৎক্ষণিক উত্তর হবেÑপাইকারি বাজারে দাম বেশি। কিন্তু একই বাজারে যখন খুচরা বিক্রির তিন দোকানে তিন রকম দাম দেখা যায়, তখন মনে প্রশ্ন জাগে বৈকি!

নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেই ব্যবসায়ীরা মুক্ত বাজার অর্থনীতির কথা বলে মুখে ফেনা তোলেন। আর আর্ন্তজাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বারবার তাৎক্ষণিকভাবে দাম বাড়ালেও বিদেশে দাম কমলে তার প্রতিফলন দেশে হয় না, তখন উল্টো সুরÑবেশি দামে কেনা, লোকসান দিয়ে বিক্রি করব নাকি? তাই ভোক্তাকে সুরক্ষা দিতে হবে রাষ্ট্রকেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়চেতা, দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক। কিন্তু সরকার পরিচালনায় দুর্গার মতো ১০ হাত তো তিনি ছড়িয়ে দিতে পারেন না। তার মন্ত্রিপরিষদ, দলীয় নেতা ও পরামর্শকরা তাকে সহায়তা দেবেন। কিন্তু তা হচ্ছে বলে তো মনে হয় না। কারণ ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্যে বৃষ্টি ও বন্যার সংবাদে দেশে পেঁয়াজের মূল্য হঠাৎ করে দফায় দফায় বাড়লেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন কোনো প্রকার উদ্যোগ না নিয়ে নীরব থাকায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

আশার কথা প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে আজ আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। করোনার সংকটেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। কিন্তু রাজনৈতিক নয়, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতা সরকারের এসব ভাবমূর্তিকে কিছুটা হলেও ম্লান করেছে। করোনার কারণে এমনিতেই তো সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। মানুষের অন্যতম প্রধান সংকট খাদ্য, একে নিবারণের ক্ষেত্রে যখন এই সাধারণ মানুষ প্রতিবন্ধকতায় পড়ে তখন জনমানুষের ক্ষোভ প্রকট হওয়াটা স্বাভাবিক। এমনিতেই কোনো কোনো সরকারি নীতি সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তুলছে। তবে দেশে চলমান ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন থামাতে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলো সোচ্চার। এমন এক বাস্তবতায় যখন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পাগলা ঘোড়া সাধারণ মানুষকে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে আর ঘোড়া সামলাতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকারি সংস্থা, তখন সরকারি দলের সহযোগীরা এগিয়ে এলে রাজনীতিতে কিছুটা হলেও গুণগত পরিবর্তন আসত।

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতার পেছনে শক্তিশালী ভোক্তা সংগঠনের অভাবকে দায়ী করছেন অনেকে। মজার কথা হলো দেশে ভোক্তা অধিকার সংগঠন আছে হাতে গোনা কয়েকটি, যাও আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। এর কারণ হলো ব্যবসায়ীরা কোনো সময় চাননি দেশে ভোক্তাদের সংগঠন শক্তিশালী হোক। সরকারের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যেভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে, টিসিবি যেরকম নিজে হাঁটতে পারছে না, সেভাবেই ভোক্তাদের সংগঠনকে সরকারি-বেসরকারি কো না সহযোগিতা প্রদান করা না হলে তারা কীভাবে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলবে? আর ভোক্তাদের বিপরীতে সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের নিজস্ব সংগঠন আছে এবং তারা নিজস্ব উৎস থেকে সম্পদ আহরণ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনা ও সহযোগিতা পাওয়ায় তাদের সক্ষমতা তৈরি হয়ে আছে। অন্যদিকে দেশের ভোক্তারা অসংগঠিত এবং তাদের সংগঠনগুলোর কোনো সক্ষমতা তৈরি হয়নি। ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল সবকিছুকে অতি সহজে ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হচ্ছেন। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারসহ ব্যবসাসংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে তারা প্রশাসনকে সহজে প্রভাবিত করতে পারেন।

ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের হাতে। প্রশাসন দায়সারাভাবে দু-একটি অভিযান পরিচালনা করেই ক্ষান্ত এবং সরকারকে অবহিত করা হচ্ছেÑব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রকৃত অর্থে এই ধারাবাহিকতাবিহীন খণ্ডকালীন অভিযান বাজারে কোনো প্রভাব ফেলার পরিবর্তে বাজারকে আরও উসকে দিচ্ছে। মানুষের জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ও বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সমন্বিত বাজার তদারকি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সফলভাবে নেতৃত্ব প্রদান করলেও বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের মতো অতি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোয় প্রশাসনের দৃষ্টি না থাকায় তারা সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারছে না। ফলে সরকারের অনেক উদ্ভাবনী উদ্যোগের সুফল তৃণমূল মানুষ উপভোগ করতে পারছে না। যে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসন ওই খাতের ব্যবসায়ী ও ভোক্তা এবং প্রশাসনের লোকজনকে নিয়ে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ সভা করে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করা, বাজার তদারকি জোরদার করে মজুতদারি ঠেকানো, আমদানিকারকের এজেন্ট পরিচয়ে অবৈধ পেপারলেস ব্যবসা বন্ধ, পেঁয়াজসহ নিত্য ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, বিকল্প বাজার হিসেবে খাদ্য বিভাগের আওতায় বাজারে ওএমএস চালু এবং টিসিবির মাধ্যমে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়ে অস্থিরতা ঠেকানোর নজির রাখলেও ইদানীং ব্যবসায়ীদের ওপর সবকিছু ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা যেভাবে পারে লুটপাট করছে, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন নীরব দর্শক। জনভোগান্তি লাঘবে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততা জনমনে ক্ষোভ সঞ্চার করছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..