সম্পাদকীয়

ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে আশু পদক্ষেপ কাম্য

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অন্যতম ভোজ্যতেল। যেসব পণ্যের সংকট দেখা দিলে বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়, ভোজ্যতেল তার মধ্যে অন্যতম। পণ্যটির ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা বিদ্যমান থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব দেশীয় বাজারে থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপৎকালীন সংকটের সুযোগে যাতে কোনো অসাধু চক্র সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের উচিত আশু পদক্ষেপ নেওয়া।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির: এক মাসে কেজিতে দাম বেড়েছে ২৪ টাকা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৪ টাকা পর্যন্ত। কম সময়ের মধ্যে পণ্যটির দামে এত বেশি উল্লম্ফন কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে তা ভোক্তার নাভিশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে এমনিতেই ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। গত মার্চ মাসে সংক্রমণ চিহ্নিত হওয়ার পর অসংখ্য মানুষ কর্মহীন হয়েছে। সিংহভাগ মানুষের রোজগারও কমেছে। বিশেষ করে ব্যক্তি খাতে কর্মরত কর্মীদের বেতন-ভাতাদি কমানো হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইও করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা চরম দুর্দশায় দিনাতিপাত করছেন। তার মধ্যে যদি ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকে, তাহলে বিষয়টি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এমন অবস্থা থেকে নাগরিকদের নিষ্কৃতি দিতে সরকারের পক্ষ থেকে যুতসই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

বিক্রেতারা যদিও বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই দেশীয় বাজারে দাম বাড়ার যৌক্তিকতা কতটুকু, তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে বলে মনে করি। কারণ বর্তমানে যে তেল বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে, তা আমদানি করা হয়েছে বেশ আগে। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম ছিল। কাজেই কম দামে আমদানি করা তেল বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা উচিত। আবার ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে আরও বেশি দাম প্রাপ্তির আশায় একশ্রেণির অসাধু চক্র এটির মজুত শুরু করে। আবার সিন্ডিকেট করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগও পাওয়া যায় মাঝে মধ্যে। কাজেই এসব বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখা অত্যন্ত জরুরি।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকলে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে বাজারে ভারসাম্য আনার উদ্যোগ নেয় সরকার। সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগে তেলও বিক্রি করা হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ টিসিবির এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা উচিত বলে মনে করি। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের নিয়মিত বাজার পরিবীক্ষণ করা উচিত। সরকার এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেবে বলেই বিশ্বাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..