দিনের খবর পত্রিকা শেষ পাতা

ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ কেউ কথা রাখছে না

আয়নাল হোসেন: দেশের মিল গেট, পাইকারি ও খুচরা বাজার কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে না। এজন্য খুচরা বিক্রেতারা পরিবেশকদের এবং পরিবেশকরা মিলারদার দোষারোপ করছেন। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে মিলারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েয়ে। যদিও তা অস্বীকার করছেন পরিবেশকরা।
গত ১৭ ফেব্রæয়ারি ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করে দেয় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন-সংক্রান্ত সরকারি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল মিলগেটে ১০৭ টাকা, পরিবেশক পর্যায়ে ১১০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর ৫ লিটারের বোতল নির্ধারণ করা হয় মিলে ৫৮৫ টাকা, পরিবেশকে ৬০০ টাকা এবং খুচরা ৬২৫ টাকা। গতকাল রাজধানীর পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে পরিবেশক পর্যায়ে প্রতি লিটার ১১০ টাকা ৮৯ পয়সা। খুচরা পর্যায়ে ৫ লিটারের বোতল ৬৩০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানী ও আশপাশের খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল গতকাল বিক্রি হয়েছে ১১৭ থেকে ১১৯ টাকায়।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হাজি আবুল হাসেম জানান, কয়েকটি মিল পরিবেশকদের কাছে ভোজ্যতেল আগে বিক্রি করলেও এখন তা সরবরাহ দিচ্ছে না। এতে সরবরাহ সংকটে দাম বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব পরিবেশক রেডি সয়াবিন বিক্রি করছেন, তাদের সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলি ভুট্টো বলেন, মিল থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে না। মূল্য নির্ধারণ করার পর মিলে মণপ্রতি দাম বেড়েছে সয়াবিন তেলে ১০০ টাকা পর্যন্ত। আগে প্রতি মণ (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) তেল বিক্রি হয়েছিল চার হাজার ৪২০ থেকে চার হাজার ৪৩০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে চার হাজার ৫২০ থেকে চার হাজার ৫৩০ টাকায়।
মৌলভীবাজারের ভোজ্যতেলের পরিবেশক মেসার্স জব্বার স্টোরের স্বত্বাধিকারী আবদুল জব্বার বলেন, মিলগুলো কারসাজি করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়াচ্ছে। তারা বিক্রি করেছে এক হাজার গাড়ি। আর সরবরাহ দিচ্ছে ১০০ গাড়ি। এতে বাজারে দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। মিলারদের কাছে সরকারও অসহায় হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
তবে সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিটি গ্রæপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা। তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, প্রতিদিনই তাদের মিল থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। গতকালও তাদের মিলে ২৫০ থেকে ৩০০ গাড়ি ভোজ্যতেল সরবরাহ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে আগে বিক্রি করা তেল সরবরাহ না দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
রাজধানীর পাশের কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকার মুদি দোকানি সৌরভ আহমেদ জানান, তিনি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১১৭ থেকে ১১৯ টাকায় বিক্রি করছেন। আর ৫ লিটারের বোতল বিক্রি করছেন ৬৩০ থেকে ৬৪০ টাকায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, গতকাল প্রতি লিটার খোলা তেল ১১৫ থেকে ১১৮ টাকা, সুপার পাম ১০৫ থেকে ১০৭ টাকায় এবং ৫ লিটারের বোতল ৫৮০ থেকে ৬৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহŸান জানিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গত বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত
অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশকবিষয়ক জাতীয় কমিটির সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ আহŸান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে মন্ত্রীর এই আহŸান কেউ মানছেন না।
টিপু মুনশি বলেছিলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন-সংক্রান্ত সরকারি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রয় নিশ্চিত করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় কমিটি এই মূল্য নির্ধারণ করে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে ১৮ লাখ টন। আর শুধু রমজান মাসে প্রয়োজন হয় চার লাখ টন। এসব তেল মূলত দেশের কয়েকটি শিল্পগ্রæপ আমদানির মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..