সম্পাদকীয়

ভোজ্যতেলের যৌক্তিক দাম নির্ধারণে কঠোর ব্যবস্থা নিন

ভোজ্যতেল রান্নার অপরিহার্য অনুষঙ্গ। এটির বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ নেই। দাম যতই বাড়–ক এটি কিনতেই হবে। ব্যবহার কম আর কতই করা যায়! ফলে দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে সীমিত আয়ের মানুষ। কভিডকালে যখন সব শ্রেণির মানুষের আয় কমেছে, সেখানে শুধু রান্নার তেলেই এখন মাসে দেড়শ টাকা বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। আমাদের ভোজ্যতেলের মূল উৎস আন্তর্জাতিক বাজার। সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল এনে দেশের কারখানাগুলোয় পরিশোধন করে বাজার জাত করা হয়। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ভোজ্যতেল আমদানিতে করহার সমন্বয় করতে পারে।

দাম বেঁধে দিলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণে কেউ কথা রাখছে না। মিল গেট, পাইকারি ও খুচরা বাজার কোথাও সরকার নির্ধারিত মূল্যে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে না। এজন্য খুচরা বিক্রেতারা পরিবেশকদের এবং পরিবেশকরা মিলারদের দোষারোপ করছেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দেয় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন-সংক্রান্ত সরকারি ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় কমিটি।

আমরা মনে করি, দাম নির্ধারণ করে দেয়া কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। জাতীয় কমিটির উচিত বাজার নজরদারি করা। ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য, স্থানীয় সরবরাহ, মজুদ পরিস্থিতি, ভোক্তাদের ভোগান্তি প্রভৃতি চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে। তারপর করণীয় নির্ধারণে অংশীজনরা বৈঠক করতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে দাম বাড়বে, আবার কর বাড়লে তেলের দাম বাড়বে। ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর রয়েছে। এছাড়া উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ১৫ শতাংশ করে মূসক দিতে হয়। গত অর্থবছরের বাজেটে ভোজ্যতেলের মূসক এক স্তরের বদলে তিন স্তরে আরোপ শুরু হয়। সব মিলিয়ে দামে এর প্রভাব পড়ে, ভোগান্তি বাড়ে ভোক্তাদের।

ভোক্তাদের দুর্ভোগ লাঘবে ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। কমিশন বলছে, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে থাকায় আমদানি পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট শুল্কায়ন মূল্য ধরে তার ওপর মূসক আরোপ করা যেতে পারে। উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক অব্যাহতির কথা বলেছে কমিশন। ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, নিত্যপণ্যের ওপর কর থাকা উচিত নয়। থাকলেও এক স্তরে কর আরোপ করা উচিত। কভিডকালে এমনিতেই দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে। এই সময়ে তেলের চড়া দাম মানুষের কষ্ট বাড়াবে।

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনা করে সরকার করছাড় দিতে পারে। সেটির সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, করছাড় সুবিধা পাচ্ছে বাজারজাতকারীরা। তাই বাজার তদারকিও জোরদার করতে হবে।

অনেক সময় পাইকাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকে। আসন্ন রোজায় তেলের ব্যবহার বাড়বে। তখন ভোক্তার ওপর যেন চাপ না বাড়ে সেজন্য টিসিবির মাধ্যমে ভোজ্যতেল বিক্রির উদ্যোগ বাড়াতে হবে। পরিবেশক ও বাজারজাতকারীদের ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কার্যক্রম রোধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পারিচলানা করতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..