সম্পাদকীয়

ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিন

নভেল করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কভিড) প্রকোপ শুরু হওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেকেই জীবিকা হারিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছেন, কর্মরতদের আয় কমেছে। সবাই এখন সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হচ্ছেন নিতান্ত বাধ্য হয়ে। এ অবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে, তা সহজেই অনুমেয়। গতকাল শেয়ার বিজে ‘ভোজ্যতেল নিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না সিটি গ্রুপ!’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, আগাম বিক্রি করে সরবরাহ দিতে বিলম্ব করছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ। তবে বাজারে কোম্পানিটির সয়াবিন তেলের বিক্রয়াদেশ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেলে দেশের পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের আশঙ্কায় আমদানি কমিয়ে দেয়। পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত অগ্রিম বিক্রয়াদেশের সিøপ বিক্রি করে। পরে তেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এরপর অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানি তেল সরবরাহ দিতে দেরি করে।

ক্রেতাদের চাহিদাকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ী বাজারে নিত্যপণ্য, খাদ্য ও দ্রব্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষকে নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দাম বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নিত্যপণ্য মজুদ ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি অত্যন্ত গর্হিত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যৌক্তিক মুনাফার পরিবর্তে ক্রেতাদের ঠকিয়ে বেশি মুনাফা হাতিয়ে নেয়ার প্রবণতা অমানবিক।

বাজার-প্রক্রিয়াকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ব্যাহত করতে না পারে, তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা উচিত। অস্থিতিশীল হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো পক্ষ এটিকে অজুহাত দেখিয়ে ভোজ্যতেলের দাম যেন যথেচ্ছ বাড়িয়ে দিতে না পারে। আমদানিকারকরা যদি কোনো জটিল প্রক্রিয়ার শিকার হয়ে থাকেন, তাদেরও সুরক্ষা দিতে হবে। প্রায়ই অভিযোগ ওঠে সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রমজান উপলক্ষে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেমন পণ্য মজুদ করেন, তেমনই অবস্থাপন্ন ভোক্তারাও বেশি পণ্য কিনে রাখেন। এটিও বাজারে প্রভাব ফেলে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাবে। তাতে বিপাকে পড়বে সাধারণ মানুষ। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে আমাদের এখানেও দাম বাড়তেই পারে। কিন্তু তা কতটা যৌক্তিক, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে আগে। দেখতে হবে, সিটি গ্রুপ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না, নাকি রক্ষা করতে পারছে না। দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলে দাম বাড়ার কারণ নেই। এটি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধির অভিসন্ধান হলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। ভোজ্যতেলের দাম যাতে না বাড়ে, সে জন্য তদারকি জোরদার করতে হবে।

বলা হয়ে থাকে, দেশে সক্রিয় সংঘবদ্ধ চক্রগুলো চাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের বাজার জিম্মি করে ফেলেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া একপ্রকার দুঃসাধ্য। এ চক্র ভাঙার জন্য সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তৈরি করার বিকল্প নেই।

রমজান মাস প্রায় সমাগত। তখন তেলের চাহিদা আরও বেশি হবে। এ অবস্থায় আমদানিকারকদের সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক করে দ্রুত আমদানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। শুল্ককর কমালে মিলমালিকরাও তেল আমদানি করতে পারেন। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা টিবিসি নিত্যপণ্যের আপৎকালীন মজুদ গড়ে তুলে যথাসময়ে ভোক্তাসাধারণের কাছে সাশ্রয়ী দামে বিক্রি করলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..