প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ভোজ্যতেলে ভ্যাট মওকুফ সুবিধা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোজ্যতেলে উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট মওকুফের মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকেই তা কার্যকর বলে গণ্য হবে। ভোজ্যতেলের দাম ভোক্তার নাগালে রাখতে ছয় মাস ধরে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম যাতে নতুন করে না বাড়ে, সেজন্য এই সুবিধার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভ্যাটমুক্ত সুবিধা বহাল রাখতে গতকাল এসআরও জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এর আগে আগামী জুন পর্যন্ত এই সুবিধা বাড়াতে ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে চিঠি দেয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (কাঁচামাল) সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে পণ্যটির দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তাই স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদ ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আবার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’ বর্তমানে ভোজ্যতেলে আমদানি পর্যায়ে পাঁচ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এ সুবিধা দুদফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সর্বশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ভোজ্যতেল উৎপাদক ও বিপণনকারী কোম্পানি সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘ভ্যাট মওকুফ সুবিধা অব্যাহত না রাখা হলে ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক করহার বেড়ে যাবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। সেজন্য আমাদের দাবি হচ্ছে, বর্তমান যে সুবিধা রয়েছে তার মেয়াদ আগামী বাজেট পর্যন্ত বহাল রাখা হোক।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর গত মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দাম বাড়ে। ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে পাঁচ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে। এর দুদিন পর ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হয় শুক্রবার।

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানিকারক দেশগুলোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় এমন দরপতন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অফ ট্রেডে ২৮ জুলাই সয়াবিন তেলের দর উঠেছিল টনপ্রতি এক হাজার ৪৫১ ডলার। বর্তমানে টনপ্রতি দাম এক হাজার ২০০ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের চেয়ে বেশি কমেছে পাম তেলের দাম। তবে দেশের বাজারে এই দাম কমার সুফল পাওয়া যায়নি ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের কারণে। গত কয়েক মাসে ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ডলারের দর দাঁড়িয়েছে ১০৬ টাকা। বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন ১৯২ টাকা ও পাম তেলের দাম ১৩২ টাকা ঠিক করে দেয়া হয়েছে। দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত আকারে পাম তেল আমদানি করেন। আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। বছরে ২১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়। এছাড়া মাড়াই করে পাওয়া যায় আরও তিন লাখ টন সয়াবিন।