সারা বাংলা

ভোলায় হাত ধোয়ার বেসিন পরিত্যক্ত

কভিড-১৯

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে ভোলার বিভিন্ন স্থানে হাত ধোয়ার জন্য বেশ কয়েকটি ‘বেসিন’ বসানো হয়। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৈরি এসব বেসিন বর্তমানে নোংরা, আবর্জনার স্তূপ, ধুলো-বালিতে মাখামাখি হয়ে ব্যবহার অযোগ্য অবস্থায় পড়ে আছে। অবহেলায় এখন পরিত্যক্ত রয়েছে।

মাঝখানে কয়েক মাস কভিড সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ায় এসব বেসিন ব্যবহারে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। সূত্র: বিডিনিউজ।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার রেকর্ড অতিক্রম করলেও এসব বেসিন পরিষ্কার কিংবা ব্যবহার উপযোগী করার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরের যোগীরঘোল চত্বর, সদর উপজেলা চত্বর, সাব রেজিস্ট্রার অফিস, ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ, ভোলা সদর হাসপাতাল, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ভোলা পৌর ভবনের সামনে, পরাণগঞ্জ বাজার মসজিদসংলগ্নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লোক সমাগম স্থানে ১৬টি বেসিন নির্মাণ করেছে ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

এছাড়া শহরের বাইরে প্রতি উপজেলায় দুটি করে জেলায় ২৮টি বেসিন নির্মাণ করা হয় বলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে।

স্থনীয়রা জানান, নির্মাণের পর কয়েকদিন এগুলো সচল থাকলেও এখন বেসিনগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে, যার ফলে পথচারীরা এগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। সরকারের লাখ টাকা ব্যয় করে নির্মিত বেসিনগুলো দ্রুত সংস্কার করে জনসাধারণের ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ইলিয়াছ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ইলিয়াছ বলেন, জেলায় জরুরি ভিত্তিতে ২৮টি বেসিনের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠান ২২টি বেসিন ২৯ হাজার টাকা বয়ে নির্মাণ করেন। বর্তমানে বেসিনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

ইলিয়াছ আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে বেসিনগুলো নির্মাণ করে আমরা ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করি। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের।

যোগীরঘোল বাজার ব্যবসায়ী ইজমাউল হক বলেন, গত বছর করোনাকালে তাড়াহুড়ো করে বেসিনগুলো নির্মাণ করে কেউ এটার দেখভাল করেনি। কিছুদিন চলার পর হঠাৎ অচল হয়ে যায়। সাবান, পানি কোনো কিছুরই ব্যবস্থা ছিল না।

ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, আমরা ইউনিসেফ থেকে যে পরিমাণ সাবান পেয়েছি তা সব বেসিনেই দিয়েছি। কিন্তু পরদিন আর সাবান পাওয়া

যায়নি। বেসিনগুলোর পরিচর্যার ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদ খান বলেন, গত বছর জরুরি ভিত্তিতে ২৮টি বেসিন নির্মাণ করা হয়। পরে এগুলো আর পরিচর্যা করা হয়নি। তিনি বলেন, নির্মাণের সময় যে স্থানে বেসিনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করবে বলে তারা প্রস্তাব রেখেছিল। কিন্তু কেউ প্রতিশ্রুতি রাখেনি। যেহেতু আবার কভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে তাই বেসিনগুলো পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা মনে করে সব উপজেলায় চিঠি দেবেন বলে তিনি জানান।

প্রয়োজনীয় পানির জন্য পুনরায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন মনিটরিং অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..