দিনের খবর সারা বাংলা

ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত নীলফামারী স্বাস্থ্য বিভাগ

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী: নীলফামারীর ছয় উপজেলায় করোনার টিকা বা ভ্যাকসিন সংরক্ষণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ইপিআই প্রকল্পের টিকা যে রেফ্রিজারেটরে রয়েছে সেখানেই করোনা ভ্যাকসিন সংরক্ষণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এছাড়া করোনা ভ্যাকসিন সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় বাড়তি কোনো ঝামেলা পোহাতে হবে না বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি জানান, জেলা পর্যায়ে আজ ২৫ জানুয়ারি মিটিং ডাকা হয়েছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে। তিনি হবেন উপদেষ্টা। এরপর সভাপতি জেলা প্রশাসক, সদস্য সচিব সিভিল সার্জনসহ ১৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ১৫ ক্যাটেগরির লোক এ টিকা পাবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা-বিষয়ক কর্মকর্তারা এ তালিকা নিশ্চিত করবেন। তারা আমাদের কাছে ওই তালিকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এরই মধ্যে কিছু উপজেলা থেকে প্রথম সারির সেসব যোদ্ধার তালিকা আসতে শুরু করেছে।

ভ্যাকসিন প্রয়োগ কেন্দ্র কোথায় করা হবে জনতে চাইলে সিভিল সার্জন জানান, প্রথম পর্যায়ে জেলা ও উপজেলাভিত্তিক স্থানীয় হাসপাতালে টিকা প্রদান করা হবে। সেখানে ছয় প্রতিনিধি টিকা প্রয়োগের কাজ করবেন। এর মধ্যে রয়েছেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দুজন, নার্স দুজন ও স্বেচ্ছাসেবক দুজন। প্রয়োজনবোধে আরও কর্মী বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিভিল সার্জনসহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেবুল হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে যাদের করোনা ভ্যাকসিন দেয়া হবে তাদের নামের তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। অপরদিকে করোনা ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য যে তাপমাত্রার দরকার (দুই দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস) তা যথেষ্ট রয়েছে। বর্তমানে হাম-রুবেলা ভ্যাকসিন প্রয়োগ

শেষের দিকে। আর করোনার ভ্যাকসিন সেই রেফ্রিজারেটরে রাখা হবে। পরে টিকার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নীলফামারী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোরের সহকারী স্টোর কিপার মো. নুরুজ্জামান জানান, আগামী এপ্রিলে করোনার ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে (হিম ঘর) ‘কোল্ড স্টোর রুম’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে সব ধরনের যন্ত্রপাতি এসে গেছে। কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. এলিনা আকতার বলেন, ‘প্রথম পর্যায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা ভ্যাকসিন কী পরিমাণ লাগবে বা কাদের ওই ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে, সে ব্যাপারে জেলা পর্যায়ে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভ্যাকসিন যারা পাবে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এতে ১৫ ক্যাটেগরির মানুষ স্থান পাবে। আমরা এরই মধ্যে সব দপ্তর থেকে তালিকা চেয়েছি।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..