প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ভ্যাকসিন সংকট: পাবনায় মুরগির মড়কে লোকসানে খামারিরা

 

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া, চাটমোহর ও ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লেয়ার মুরগির খামারে মড়ক দেখা দিয়েছে। এসব খামারে কলেরা রোগে মারা যাচ্ছে ডিম দেওয়া মুরগি। খামারিরা কলেরার প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগও সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ তাদের। আর প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনে এমন মড়ক দেখা দিয়েছে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৯ উপজেলায় ৭৯০টি লেয়ার এবং এক হাজার ৫৯টি ব্রয়লার মুরগির খামার আছে। এর মধ্যে আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী, চাটমোহর ও সদর উপজেলায় বেশি খামার আছে। আটঘরিয়া উপজেলার কয়েকজন খামারি জানান, বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে কিছুদিন হলো খামারিরা লাভের মুখ দেখছেন। অনেকে ঋণ নিয়ে নতুন খামার করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ আবার মুরগির মড়ক দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে বেশ কিছু খামারের অর্ধেক মুরগি মরে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় এক হাজার মুরগি মারা গেছে কয়েকটি খামারে। বিষয়টি প্রাণিসম্পদ বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা রোগটিকে কলেরা বলছে। কিন্তু বাজারে কলেরা রোগের ভ্যাকসিন সংকট থাকায় তারা তা ব্যবহার করতে পারছেন না।

আটঘরিয়া উপজেলার বেরুয়ান গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি এক হাজার ৯০টি লেয়ার মুরগি নিয়ে খামার করেছিলেন। বর্তমানে মুরগিগুলোর বয়স ৩০ সপ্তাহ। খামার থেকে তিনি প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ ডিম পাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই খামারে মুরগির মড়ক দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহে প্রায় ৩০০ মুরগি মরে গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ডিগ্রিপাড়া গ্রামের মামুন হোসেনের খামারেও একই অবস্থা। তার খামারে এক হাজার ১০০টি মুরগি ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ মুরগি মরে গেছে। এ অবস্থায় তিনি ডিমপাড়া মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে তার অনেক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের মিয়াপাড় গ্রামের আবু তাহের বলেন, একবার খামারের মুরগি রোগে আক্রান্ত হলে আর বাঁচানো যায় না। সংকটের সময় প্রাণিসম্পদ বিভাগ তাদের কোনো সাহায্য করে না। প্রয়োজনীয় ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না। বারবার তাদের লোকসানে পড়ে পথে বসতে হয়।

আটঘরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র পণ্ডিত বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে মুরগির রোগ দেখা দিয়েছে। খামার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে নিয়মিত টিকা দিলে এ সমস্যার সমাধান হবে। তারা খামারিদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল গফুর বলেন, ইতোমধ্যে তারা মুরগির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছেন। রোগটি কলেরা। রোগের ভ্যাকসিন সংকট আছে এবং সেই সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। শিগগিরই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে।