প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ভ্যাট ফাঁকি রোধে বড় প্রতিষ্ঠানের লেনদেন সফটওয়্যারে

রহমত রহমান: বড় প্রতিষ্ঠান মানেই লেনদেন বেশি, ভ্যাট ফাঁকিও বেশি। তাছাড়া রাখতে হয় একগাদা হিসাবপত্র। তবে বড় প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্বচ্ছতা আনয়ন ও ভ্যাট ফাঁকি রোধে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সেজন্য বছরে পাঁচ কোটি টাকার বেশি লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান বিশেষ সফটওয়্যারের আওতায় আনা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সব লেনদেন হবে এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে, যা সহজে দেখতে পাবে এনবিআর। তবে এনবিআর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে সফটওয়্যার নিতে প্রতিষ্ঠানগুলো গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, সফটওয়্যারে লেনদেন না করলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) মূল্য সংযোজন কর শাখাসহ এনবিআরের আওতাধীন ১২টি ভ্যাট কমিশনারেট রয়েছে। এতে পাঁচ কোটি টাকা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক, যার মধ্যে এলটিইউতে রয়েছে ১৫৬টি প্রতিষ্ঠান। ভ্যাটের লক্ষ্যমাত্রার এক-তৃতীয়াংশই এই পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠান জোগান দেয়। তবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে লেনদেনের কারণে নিরীক্ষার সময় হিসাবপত্র পাওয়া যায় না। হিসাবপত্র লুকিয়ে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই বছরের পর বছর ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে।
এনবিআর প্রতিবছর এসব প্রতিষ্ঠানের দাখিলপত্র যাচাই, অভিযান আর নিরীক্ষার মাধ্যমে বিপুল ফাঁকি উদ্ঘাটন ও মামলা করে। এসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে স্বচ্ছতা এলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় হবে বলে মনে করেন এনবিআর কর্মকর্তারা।
সূত্র আরও জানায়, এনবিআর যাচাই শেষে ১১টি কোম্পানির ভ্যাট সফটওয়্যার অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছেÑইউওয়াই সিস্টেমস, ইনোভিয়া টেকনোলজিস, ধ্রুপদী টেকনো কনসোর্টিয়াম, ডিভাইন আইটি, সিম্ফনি সফটটেক, বেস্ট বিজনেস বন্ড, সিএসএল সফটওয়্যার রিসোর্সেস, এলাইড ইনফরমেশন টেকনোলজি, যুবসফট ইনফরমেশন সিস্টেমস, মিডিয়া সফট ও ইউনিসফট সিস্টেমস। প্রতিষ্ঠানকে এসব সফটওয়্যারে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর করতে পাঁচ কোটি টাকার বেশি লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের এ সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ১৩ জুন এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে এনবিআর।
আদেশে বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮ক অনুযায়ী যেসব ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ পূর্ববর্তী আর্থিক বছরের মোট বিক্রি বা টার্নওভার পাঁচ কোটি টাকা বা তার বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট-সংক্রান্ত দলিলাদি ও হিসাবপত্র এনবিআর-নির্ধারিত ভ্যাট সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণের এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট কমিশনারেট বা এনবিআর-নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার সিস্টেমে পাঠাতে হবে।
আদেশ অনুযায়ী, পরীক্ষিত ও অনুমোদিত যে কোনো সফটওয়্যার নির্মাণকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সফটওয়্যার নিতে হবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান ভিন্ন কোনো উৎস থেকে সফটওয়্যার সংগ্রহ করলে বা নিজেরা সফটওয়্যার তৈরি করলে এনবিআর থেকে অনুমোদন নিতে হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটে আবেদন করতে হবে। কমিশনার যাচাই শেষে এনবিআর সদস্যের (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) কাছে পাঠাবেন। তিনি কমিটি গঠন করে দেবেন। কমিটি যাচাই শেষে অনুমোদন দেবেন। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেন পাঁচ কোটি টাকার কম, সেসব প্রতিষ্ঠান এ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চাইলেও পারবে। সেক্ষেত্রে এনবিআরের অনুমোদন নিতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ আদেশ অমান্য করলে নতুন ভ্যাট আইনের ৮৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আদেশে বলা হয়।
এনবিআরের একজন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, এনবিআরের আদেশের পর এলটিইউসহ সব কমিশনারেট কাজ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানকে এনবিআর অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এ সফটওয়্যারে ব্যবহারে গড়িমসি করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অস্বচ্ছতা রয়েছে, কেবল সেসব প্রতিষ্ঠানই গড়িমসি করছে। তবে আমরা কঠোর নির্দেশ দিয়েছি, যাতে এ সফটওয়্যার ব্যবহার করে। সহসাই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে।

সর্বশেষ..