আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রথম পাতা সর্বশেষ সংবাদ

তিন ঘণ্টা খোলা থাকবে ভ্যাট অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন মূসক আইন অনুযায়ী, আগের মাসের ভ্যাট রিটার্ন (দাখিলপত্র) চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হয়। ব্যর্থ হলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়। করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি চলছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ছুটি সংক্রান্ত আদেশ অনুযায়ী জরুরী প্রয়োজনে অফিসসমূহ খোলা রাখা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুবির্ধাথে সীমিত আকারে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সার্কেল অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

আগামী ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল পর‌্যন্ত সার্কেল অফিসসমূহ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর‌্যন্ত খোলা থাকবে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিনিয়র তথ্য অফিসার) সৈয়দ এ মু’মেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে রাতে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (মূসক-মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয়) এম এম কবিরুল ইসলাম সই করা আদেশ জারি করা হয়েছে।

### কর্মকর্তাদের যাতায়াতের সময় সঙ্গে পরিচয়-আদেশ রাখার নির্দেশ

### কর্মকর্তাদের যাতায়াতে সহযোগিতা করতে দুই সচিবকে অনুরোধ

### কমিশনারদের মনিটরিং করার নির্দেশ

সৈয়দ এ মু’মেন বলেন, ‘নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে লক্ষ্যে এনবিআর শুধুমাত্র ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুবিধার্থে সরকারি সাধারণ ছুটির সময়ে সীমিত আকারে ভ্যাট সার্কেল অফিসসমূহ ১২ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

আদেশে বলা বলা হয়, ‘করদাতাদের মাসিক ভ্যাট দাখিলপত্র দাখিলের সুবির্ধার্থে এনবিআর আগামী ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল পর‌্যন্ত সারা দেশে সকল ভ্যাট সার্কেল অফিস সীমিত পরিসরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর‌্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ছুটি সংক্রান্ত সর্বশেষ যে আদেশ জারি করা হয়েছে তাতে জরুরী প্রয়োজনে অফিসসমূহ খোলা রাখা যাবে মর্মে উল্লেখ রয়েছে।’

আরো বলা হয়, ‘এ সময়ে কর্মকর্তারা করোনা সংক্রান্ত সর্তকর্তা ও নিরাপত্তামূলক সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিশনাররা এ বিষয়টি মনিটরিং করবেন। এ দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তারা অফিসে যাতায়াতকালে বৈধ পরিচয়পত্র এবং আদেশটি সঙ্গে রাখবেন।’

এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সকল ভ্যাট কমিশনার ও এলটিইউ কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে করোনা সংক্রমণের কারণে বেশিরভাগ এলাকা লগডাউন করা হয়েছে। সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সড়কে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কাজ করছেন। তবে ভ্যাট কর্মকর্তাদের যাতায়াতে যাতে বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয় সেজন্য ১২ থেকে ১৫ এপ্রিল যাতায়াতে সার্বিক সহযোগিতা করতে জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিভাগ সচিবকে অনুরোধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, করোনা পরিস্থিতির কারণে জরিমানা ছাড়া ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। ৯ এপ্রিল এফবিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম এনবিআর চেয়ারম্যানকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছেন।

যাতে বলা হয়, ‘করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মূল্য সংযোজন কর রিটার্ন দাখিল করা অনেক করদাতার পক্ষেই সম্ভব হবে না। আগামী ১৫ এপ্রিল রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা। এ অবস্থায় রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা জরিমানা ব্যতীত বর্ধিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

মূসক আইনের ধারা ৬৪ অনুযায়ী ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে কোনো কর-মাসের রিটার্ন পরবর্তী ১৫ তারিখের মধ্যে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে যেকোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ঘরে বসে বা যেকোনো প্রান্তে বসে অনলাইনে এটি পেশ করতে পারেন। আইনের ধারা-৮৫-এর বিধান মতে, কোনো ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন পেশ না করলে তা অনিয়ম বা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত এবং এ জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিটি অনিয়মের জন্য ১০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত জরিমানা হিসাবে আদায়যোগ্য।

এমনকি প্রতি মাসের ১৫ তারিখের স্থলে ১৬ তারিখে দাখিলপত্র দিলেও এই জরিমানা আরোপযোগ্য হবে। আর এ জন্য ন্যায় নির্ণয়ন বা বিচারিক প্রক্রিয়া অবলম্বনের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে এই জরিমানা প্রযোজ্য হওয়ার দিন থেকে উক্ত জরিমানার ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদও আদায়যোগ্য। এই জরিমানা ও সুদ মওকুফ করার ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। তাই ভ্যাট আইনে এবং বাস্তবিকভাবে এটি পরিহারেরও সুযোগ নেই।

####

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..