দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনে বাধ্য করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: র‌্যালি আর জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পালিত হলো জাতীয় ভ্যাট দিবস। আর শুরু হয়েছে ভ্যাট সপ্তাহ (১০-১৫ ডিসেম্বর)। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সামনে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহের উদ্বোধন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এ সময় তিনি বলেন, ভ্যাট নিবন্ধন করার জন্য ব্যবসায়ীদের একদিকে যেমন আহ্বান করা হবে অন্যদিকে নিবন্ধন করতেও বাধ্য করা হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেরই (ব্যবসায়ী) অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন করিয়ে নিতে হবে। আমাদের দেশে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের যে শঙ্কা সেটি মোটেও কম না। কিন্তু এখনও আমাদের সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রেশন হয়ে উঠেনি। আমাদের কর্মকর্তারা যেমন চেষ্টা করে যাচ্ছেন তেমনিভাবে সব ব্যবসায়ীদের খেয়াল রাখতে হবে। তবে আমরা নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী জরিমানার ব্যবস্থা আছে। তাই ভ্যাট রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন আহ্বান করা হবে অন্যদিকে বাধ্য করা হবে। আমি মনে  করি, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক আছে সেই সম্পর্কটি নিবিড় থাকবে এবং দেশ সেবার ব্রত নিয়ে সবাই কাজ করবে।’

জনগণ যে কোনো দ্রব্য কেনা বা সেবা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাট পরিশোধ করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা সেবা দেই বিশেষ করে ব্যবসায়ী যারা কিংবা যারা দ্রব্য তৈরি করে বা বিক্রি করে সেটির সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত আছে। কাজেই ভ্যাট সরকারকে পরিশোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সবাইকে জানানোর জন্য ভ্যাট দিবস পালন করা হয়ে থাকে। আমাদের অক্টোবর পর্যন্ত ভ্যাটের প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ। আমাদের এর চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হওয়া প্রয়োজন ছিল এবং সেটি কাক্সিক্ষত ছিল। কিন্তু নানা কারণে আমাদের প্রথম দিকে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি হয়নি। আমরা মনে করি শিগগিরই এর উন্নতি হবে। কারণ আমাদের রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর ধরে শীর্ষে ভ্যাট। গত বছর ভ্যাট ছিল মোট রাজস্বের ৩৯ শতাংশ। কাজেই এখনও আমরা প্রত্যাশা করি নতুন ভ্যাট আইন যেহেতু বাস্তবায়ন হচ্ছে সেজন্য ভ্যাটের যে অবদান জাতীয় রাজস্ব আহরণে সেটি আরও বাড়তে হবে এবং বাড়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভ্যাট আইন আমরা বাস্তবায়ন করেছি সেটি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই আমরা বাস্তবায়ন করছি। ভ্যাটের যে রেটগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫, ১০, ৭.৫ ও ৫ শতাংশ; এগুলো আলোচনা করেই করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ রেট দুই শতাংশ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই শতাংশের কম নির্ধারণ করেছি। এক্ষেত্রে দ্বিধার কোনো অবকাশ নেই। ভ্যাট সরকারকে পরিশোধ করতেই হবে। ভ্যাট পরিশোধ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

উদ্বোধন শেষে খোলা জিপে বর্ণাঢ্য র?্যালি বের হয়। র?্যালিটি এনবিআরের সামনে থেকে রাজমণি সিনেমা হলের সামনে হয়ে কাকরাইল মসজিদ, মৎস্য ভবন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সামনে দিয়ে আবার এনবিআরের সামনে এসে শেষ হয়। র‌্যালিতে এনবিআরের কর্মকর্তা, কর্মচারী ছাড়াও সব ভ্যাট কমিশনারেট, কাস্টম হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারি, শিল্পী, অভিনেতা, অভিনেত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। র‌্যালি শেষে ভ্যাট বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভ্যাট দিবস উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ভ্যাট পরিশোধকারী হিসেবে পুরস্কার দেওয়া হয় ১৪৪ প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে তিন ক্যাটেগরিতে ৯টি ও জেলা পর্যায়ে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..