প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ভ্রমণকর থেকে রাজস্ব আয় কমেছে ৫১ কোটি টাকা

মহসিন মিলন, বেনাপোল (যশোর): বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী যাতায়াতে শর্তারোপ করায় ভ্রমণ কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে ৫১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫০ টাকা। জানা গেছে, গত বছর এ চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাতায়াত করেছেন তিন লাখ চার হাজার ৫০০ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রী। তাদের কাছ থেকে ভ্রমণকর বাবদ গত বছর সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে এ পথে ভারতে যাতায়াত করেন ১২ লাখ ৫৫ লাখ ৯০০ জন যাত্রী। ভ্রমণকর বাবদ তাদের কাছ থেকে ৬৮ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব আদায় করে সরকার। তবে করোনাসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় ২০১৯ সালের তুলনায় গত বছর যাত্রী যাতায়াত কমেছে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৪০০ জন।

ভ্রমণকর আদায়কারী বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আকতার ফারুক জানান, ১৯৭২ সাল থেকে বৈধভাবে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে শুরু হয় যাত্রী যাতায়াত। বেনাপোল থেকে কলকাতা শহরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। এ চেকপোস্ট থেকে রওনা দিয়ে ট্রেনে মাত্র ২ ঘণ্টা ও বাসে ৩ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় কলকাতা শহরে। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ায় প্রথম থেকে এ পথে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণপিপাসু মানুষ যাতায়াতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

তিনি জানান, বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণকর আদায় করেন সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যাত্রীপ্রতি ৫০০ টাকা ও বন্দরের ৪৮ টাকা ভ্রমণকর নেয়া হয়। কিন্তু গেল বছর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভারত সরকার ১৩ মার্চ থেকে বেনাপোল বন্দরের স্থল, বিমান ও রেলপথে পাসপোর্ট যাত্রীদের ভারতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে যাত্রী যাতায়াত যেমন আশঙ্কাজনক হারে কমে আসে, তেমনি ভ্রমণ খাতে সরকারের আয়ও কমে যায়। চার মাস পর শর্তসাপেক্ষে গত ১৫ আগস্ট থেকে ক‚টনীতিক, অফিশিয়াল, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিসাধারীদের যাতায়াতের সুযোগ হয়। পরে বিজনেস ভিসা চালু করলেও এখনও পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে ট্যুরিস্ট ভিসা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় হলেও এখনও মান বাড়েনি যাত্রীসেবার। অবকাঠামো উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি আজও। যাত্রীসেবার নামে বন্দর কর্তৃপক্ষ টার্মিনাল ফি আদায় করলেও বাড়েনি সেবার মান।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আ. জলিল জানান, করোনার প্রভাবে যাত্রী যাতায়াত কমে এসেছে। এতে ভ্রমণ খাতে সরকারের আয় কমেছে। যাত্রী যাতায়াত সুবিধার্থে নতুন জায়গা অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আহসান হাবিব জানান, বর্তমানে ভারতগামী যাত্রীদের ৯০ শতাংশ চিকিৎসা ভিসায়, ১০ শতাংশ যাচ্ছে ব্যবসা ও সরকারি কাজে। তবে ট্যুরিস্ট ভিসা এখনও চালু হয়নি।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, ‘করোনার কারণে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার কমে গেছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমে গেছে। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরলে রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।’